print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,২২, ডিসেম্বর,২০২২

মেহেদী হাসান শাহীন
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ

হাতে হাতকড়া, পায়ে ডান্ডাবেরি নিয়ে মায়ের জানাজা পড়িয়েছেন মো. আলী আজম। মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে গত মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি নিজ বাড়ি কালিয়াকৈরের পাবরিয়াচালা এলাকায় মায়ের জানাজায় অংশ নেন।

মো. আলী আজম গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। তার মা মোসাম্মদ সাহেরা বেগম বার্ধক্যজনিত কারণে গত রোববার বিকালে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

স্বজনেরা জানান, শেষবার মাকে দেখতে ও মায়ের জানাজা নিজে পড়াতে আইনজীবীর মাধ্যমে আলী আজম সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। কিন্তু ওই দিন দাপ্তরিক কাজ শেষ না হওয়ায় মঙ্গলবার তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি মিলে বিএনপির এই নেতার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে নিজ বাড়ির পাশে মায়ের জানাজাস্থলে উপস্থিত হন আলী আজম।
বেলা ১১টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মায়ের দাফন শেষে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। পুরোটা সময় হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় ছিলেন আলী আজম। এরপর মো. আলী আজমের ডানহাত মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং ডান্ডাবেরির সঙ্গে হাতকড়ার সংযোগ খুলে দেওয়া হয়। বামহাতে হাতকড়া নিয়ে এবং পায়ে ডান্ডাবেরি পরা অবস্থায় তিনি মায়ের জানাজার নামাজ পড়ান। এ সময় তার হাতকড়া ও ডান্ডাবেরি পুরোপুরি খুলে না দেওয়ায় জানাজায় উপস্থিত স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জানাজার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদসহ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

পারভেজ আহমেদ বলেন, মায়ের মৃত্যুর খবরে আলী আজমকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় জানাজার সময়ও তার হাতকড়া ও ডান্ডাবেরি খুলে দেওয়া হয়নি।

নিহতের ছোট ছেলে আতাউর রহমান জানান, তারা আবেদন করলে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। জানাজার নামাজ পড়ানোর সময় তার হাতকড়া ও ডান্ডাবেরি খুলে দেয়ার জন্য আমরা অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু পুলিশ খুলে দেয়নি।

গাজীপুর কোর্টের পিপি মকবুল হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘জেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ যেভাবে আসামিকে নিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করবেন সেভাবেই নেবেন। তারা চাইলে হাতকড়া লাগিয়ে নিতে পারেন অথবা ডান্ডাবেড়ি লাগানোর মতো আসামি হলে সেটাও তারা পারেন। আবার অনেক সময় জেলখানায় থাকা অবস্থায় আসামির আচরণের উপরে নির্ভর করে সে কীভাবে প্যারোলে যাবে। সুতরাং এটা সম্পূর্ণ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।’

উল্লেখ ,কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় গত ২৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামালার অভিযোগে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় ২ ডিসেম্বর গ্রেফতার করা হয় আলী আজমকে।
এ মামলায় আলী আজমসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরও ১৫০ জনকে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের অফিস সহকারী আবদুল মান্নান শেখকে মামলাটির বাদী করা।