print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,১৩, ফেব্রুয়ারি,২০২২

হৃদয় হোসাইন,(পাবনা)ঃ

শীতের রুক্ষতাকে পিছনে ফেলে প্রকৃতিকে আবার নতুন রূপে সাজিয়ে তোলার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে ঋতুরাজ বসন্ত।

বসন্ত মানে পূর্ণতা,বসন্ত মানে নতুন প্রাণের কলরব।গাছে গাছে নতুন পাতা-ফুলের মুকুল কোকিল পাখিদের কুহু কুহু গান আর বাতাসে ভাসে মিষ্টি ফুলের ঘ্রাণ।প্রজাপতিরা রঙিন ডানা মেলে জানায় ঋতুরাজের আগমনী বার্তা।বসন্ত শুধু প্রকৃতিতেই নয় মানুষের মনেও জাগায় সজীব প্রাণের ছোঁয়া।
তাই বসন্তের প্রথম দিন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উদযাপন করতে সবাই মেতে ওঠে উৎসবে।নিজেকে সাজিয়ে তোলে বসন্তের রঙে।ফাল্গুন নামটি এসেছে মূলত ফাল্গুনী নামে নক্ষত্র থেকে।খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ সালের দিকে চন্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষ উভয়ই মেনে চলা হতো।

ফাল্গুন ছিল পূর্ণ চন্দ্রের মাস।১৯৫০-১৯৬০ দশকেই আনুষ্ঠানিকভাবে পহেলা ফাল্গুন পালন শুরু হয়।সে সময় বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানের সংস্কৃতি থেকে নিজেদের আলাদা করতে রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনার পাশাপাশি বাঙালি নিয়মে পহেলা ফাল্গুন পালন শুরু করে।বসন্ত নিয়ে লেখা হয়েছে অনেক গান, অনেক কবিতা।কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন ’ফুল ফুটুক, আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’।

বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম বলেছিলেন ‘বসন্ত নিয়ে জনপ্রিয় একটি গান হচ্ছে ‘বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে সই গো, বসন্ত বাতাসে’।

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসন্ত নিয়ে লিখেছেন অনেক কবিতা এবং গান।পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ যেমন,ফাগুনে শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙ মনে করিয়ে দেয় বায়ান্নর ফাগুনের শহীদদের কথা।মনে করিয়ে দেয় ভাষা শহীদের রক্তের ইতিহাস।এ মাসেই মায়ের ভাষা বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিলেন রফিক, সফিক, বরকত,সালামরা।তাদের রক্তের সোপান বেয়ে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।তাই ফাগুন বাঙ্গালীর দ্রোহেরও মাস।

হৃদয় হোসাইন
পাবনা