
প্রকাশিত
শাহাদাত হোসেন রাসেল
নোয়াখালী প্রতিনিধি:
জাতীয় সংসদে হাতিয়ার নৌঘাটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপিকে জড়িয়ে মিথ্যা ও জনবিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ায় উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোপের মুখে পড়েছেন এমপি হান্নান মাসউদ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ের শুরুতে ছাত্রদল এবং এনসিপি অনুসারীদের মধ্যে হট্টগোলের মধ্যদিয়ে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়।
জাতীয় সংসদ, জেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিং ও এনসিপির দলীয় কর্মী সমাবেশে হাতিয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের জড়িয়ে ‘মিথ্যা ও জনবিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য দেন এমপি হান্নান মাসউদ। এর জেরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে আসার পথে হান্নান মাসউদ তার নেতাকর্মীসহ পরিষদ ভবনের প্রবেশদ্বারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন। এমপি নিজেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন।
এক পর্যায়ে মিটিংয়ে আসা কয়েকজন বিএনপির নেতার হস্তক্ষেপে এমপিকে আইনশৃঙ্খলা সভায় নিয়ে আসা হয়।
মিটিংয়ের শেষ পর্যায়ে বাইরে হৈ হট্টগোলে এমপি জানতে পারেন এনসিপি কর্মী ও ছাত্রদলের পুনরায় বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এ অবস্থায় সংসদ সদস্য সভায় তার বক্তব্য না দিয়ে বের হয়ে নিজেই তর্কে জড়ান।
এতে উভয় পক্ষের হট্টগোল ও এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসিতে উপজেলা যুবশক্তির সদস্য সচিব ছাইফুল ইসলাম রাকিব এবং ছাত্রদলের নেতা আকরাম, সাকিব, সাখাওয়াত হোসেন হিরো, আজাদ ও আকরাম আহত হন। প্রশাসন ও বিএনপির নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এর আগে শ্রমিক শক্তির সভাপতি আবীর হোসেন তার স্ত্রীকে হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে ভর্তির জন্য নিয়ে গেলে ছাত্রদলের কর্মীরা তাকে পিটিয়ে আহত করে। বিকেলে উপজেলা মসজিদ মার্কেটের সামনে প্রধান সড়কের উপর ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. ছাইফুল ইসলাম ছাত্রদলের কর্মীদের কিলঘুসিতে আহত হন।
এ উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এমপি হান্নান মাসুদ ঘণ্টাখানেক ইউএনও’র অফিস কক্ষে অবস্থানের পর স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি তার নেতাকর্মীদেরকে সাথে নিয়ে বাসভবনে চলে যান।
ঘটনার বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছল তিব্রীজ বলেন, বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দেখা যায়- তারা বেপোরোয়া হয়ে গেছে। আজকের আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তারা এ ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে।
হাতিয়া পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিক ইকবাল বলেন, স্থানীয় এমপি হান্নান মাসউদ জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন জায়গায় বিএনপিকে জড়িয়ে উসকানিমূলক মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হন। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বিএনপির কোন নির্দেশনা ছিলো না।



