
প্রকাশিত,০৫, ডিসেম্বর,২০২২
নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের নকলায় সুরুজ আলী (৬৫) কে পিটিয়ে হত্যা মামলার আসামি সালেহ আহাম্মেদ (৩৫), লোটাস মিয়া (৩৭) ও শাহাদাৎ হোসেন আরজু (৫৮)কে এক দিনের পুলিশ রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। ১লা ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফারিন ফারজানা এ রিমান্ড আদেশ মঞ্জুর করেন। কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা নকলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন আহম্মেদ বলেন, সুরুজ আলী হত্যা কান্ডের পর থেকে আসামীরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে আসে এবং নিম্ন আদালতে হাজির হলে আদালত জেল হাজতে প্রেরন করেন। মামলার সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত সন্তুুষ্ট হয়ে ১লা ডিসেম্বর এক দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রোববার (৪ ডিসেম্বর) নকলা থানায় আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৫ ডিসেম্বর কোর্টে প্রেরণ করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সন্ধায় নকলা উপজেলার চরঅষ্টধর ইউনিয়নের নারায়নখোলা পশ্চিমপাড়া এলাকার সালেহ আহাম্মেদ, লোটাস মিয়া ও শাহাদাৎ হোসেন আরজুদের বশতবাড়ীর অঙ্গিনায় খড়ের পালায় কে বা কারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এদিকে সেই আগুন লাগানোর সন্দেহ ওই এলাকার মৃত মন্নেস আলীর পুত্র সুরুজ আলী (৬৫) বাড়ি থেকে নারায়নখোলা বাজারের যাওয়ার সময় নারায়নখোলা টাঙ্গারবনের শহিদুল ইসলামের মুদির দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছা মাত্রই আসামীরা পিটিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে সুরুজ আলী অজ্ঞান হয়ে পড়ায় মারা গেছে ভেবে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্য কাজাইকাটার শিমুলতলী বাজার সংলগ্ন পশ্চিম পার্শে একটি ধান ক্ষেতে রাখিয়া চলিয়া যায়। এ বিষয়টি জানাজানি হতে থাকিলে আসামীরা সুরুজ আলীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়েছে বলে ভর্তি করেন। পরে অনেক খোঁজাখোঁজির পরে সুরুজ আলীর ছোট ভাই খোকা মিয়া ৭ সেপ্টম্বর (বুধবার) লোক মারফত জানতে পারেন সুরুজ আলী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে মারা গেছেন। সুরুজ আলীর মৃত্যুর সংবাদ শুনতে পেয়ে আসামীগন কৌশলে হাসপাতালে মরদেহ রেখে পালিয়ে যায়। পরে খোকা মিয়া বাদী হয়ে নকলা থানায় ৩ জনকে আসামীকে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে রিমান্ড শেষে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালতের অনুমতি স্বাপেক্ষে জিজ্ঞাবাদের কারাগার থেকে থানায় আনা হয়েছিল। সুরুজ আলী হত্যার চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।


