print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত ১১ আগস্ট ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জনগণের ভোটের অধিকারের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। তারা বলেন, নির্দলীয় সরকার গঠন করে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাআল্লাহ।

শুক্রবার (১১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে গণমিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ ঘোষণা দেন তারা।

সরকারের পদত্যাগ এবং বিজয়ের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে মন্তব্য করে ১২ দলীয় জোট নেতারা বলেন, অবিলম্বে বর্তমান সরকারকে বিদায় নিতে হবে। তাছাড়া দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

সমাবেশে ১২ দলীয় জোট প্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) সভাপতি মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির নেতৃত্বে চলমান সরকার পতনের আন্দোলনে বিএনপিসহ অন্যান্য দল ও জোটের যুগপৎ কর্মসূচির আওতায় আজকের এই গণমিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশ এবং দুনিয়া দেখছে দেশের সিংহভাগ মানুষ শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ ও মিছিলের মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জনগণের ভোটের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন চলবে।

জোটের মুখপাত্র কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক বলেন, বিদেশিদের ওপর ভরসা করে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানো বাস্তবসম্মত নয়। সবাইকে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে বিদায় করতে হবে। আজকে দেশে ব্যাংক লুটপাট চলছে। দেশের ছয়টি ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। এদের তো ফাঁসি হওয়া উচিত। তাহলে আর পদত্যাগ করা লাগবে না। আমরা এই দাবি আদায় পর্যন্ত রাজপথে আছি এবং থাকবো।

সমাবেশ শেষে সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কি সংলগ্ন সড়ক থেকে মিছিল বের হয়, যা শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব এ এস এম শামীমের উপস্থাপনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় পার্টির মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, জাতীয় দলের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) চেয়ারম্যান শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাশেদ প্রধান, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবুল কাশেম, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান ড. জাভেদ মো. সালেউদ্দিন প্রমুখ।

এদিকে একই সময়ে
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তাই তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়। দেশবাসী অশান্তি ও কষ্টে থাকলে তাদের কিছু আসে যায় না। আওয়ামী লীগ অতীতে রাজনীতি ধ্বংস করেছিল, বর্তমান মনুষ্যত্ব ও দেশ ধ্বংস করে দিয়েছে। তাই বলছি, যত শিগগির সম্ভব ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করুন। সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।’

শুক্রবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর পূর্ব পান্থপথের এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত গণমিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি। মিছিলটি মালিবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

কর্নেল অলি বলেন, ৬ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে সরকারের আস্থাভাজনরা। অথচ তাদের ব্যাপারে কোনো শাস্তিমূলকব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। লোপাট করা অর্থের বড় অংশ পাচার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে।

এলডিপির প্রেসিডেন্ট বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পরিবর্তন করে যে সাইবার নিরাপত্তা আইন করেছে তাতেও বিতর্কিত ৪৩ ধারা রয়েছে। এ আইন জনগণের কল্যাণে নিয়ামক নয়। তাই এ আইন বাতিল করুন।

দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বন্যার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন ও খাগড়াছড়িতে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। অথচ সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

দেশের বিচার ও ভোট ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, সাগর-রুনিসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার হচ্ছে না। পুরো রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে তারা ক্ষমতায় আছে। দেশের ভোট ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এ সরকারের অধীনে কখনই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। তাই এ সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে।

পরে গণমিছিলে অংশ নেন এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি নূরুল আলম তালুকদার, ড. নেয়ামূল বশির, ড. আওরঙ্গজেব বেলাল, অ্যাডভোকেট এসএম মোরশেদ, অধ্যক্ষ সাকলায়েন, ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাহে আলম চৌধুরী, উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপিকা কারিমা খাতুন, যুগ্ম মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম, প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিলু প্রমুখ।