print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,১৯, জুলাই ২০২২

মেহেদী হাসান শাহীন
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ

গাজীপুর শ্রীপুরের ভাংনাহাটি পশ্চিমপাড়া নতুন বাজার গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ছেলের পরিকল্পনায় বাবাকে হত্যার রহস্য উদঘাটন সহ ঘটনার সাথে জড়িত দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)
গাজীপুর শ্রীপুরের ভাংনাহাটি পশ্চিম পাড়া (নতুন বাজার) গ্রামের মৃত হাজী আঃ মালেক মিয়ার ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৬০) বসতবাড়ীর সামনে রাস্তার পাশে অটো রিক্সার গ্যারেজ সহ অটোরিক্সা তৈরি ও ক্রয়-বিক্রয় করতো। গ্যারেজের বিভিন্ন অটো রিক্সার চালক অটো চার্জসহ দৈনিক গ্যারেজ ভাড়া প্রদানের ভিত্তিতে গ্যারেজে গাড়ি রাখতো। গিয়াস উদ্দিন গ্যারেজের ভিতরে একপাশে কাঠের চৌকির উপর প্রতিদিন রাতে ঘুমাতো। প্রতিদিনের মতো ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর রাতে গ্যারেজে ঘুমিয়ে পড়ে। পরের দিন ১২ ডিসেম্বর আনুমানিক সকাল ৬ ঘটিকায় গ্যারেজের ভিতরে কাঠের চৌকির উপর থেকে গিয়াস উদ্দিনকে মাথায় রক্তাক্ত জখম অবস্থায় দেখে পরিবারের সদস্যরা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষনা করেন। এ বিষয়ে মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মোঃ অলিউল্লাহ বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় ১২ ডিসেম্বর পেনাল কোড আইনে মামলা দায়ের করলে শ্রীপুর থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। শ্রীপুর থানা পুলিশ মামলাটি প্রায় ০৩ মাস তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার নির্দেশক্রমে পিবিআই গাজীপুর জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। পুলিশ সুপার, পিবিআই গাজীপুর জেলার হাওলা মতে পিবিআই, গাজীপুর জেলায় কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক মোঃ হাফিজুর রহমান মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।

অ্যাডিশনাল আইজিপি পিবিআই বনজ কুমার মজুমদার এর তত্ত্বাবধানে পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার, মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এর সহযোগিতায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ হাফিজুর রহমান তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মামলার ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আসামী ২০২২ সালের ১৮ জুলাই ময়মনসিংহের পাগলা কোকসাইরের আনুমানিক রাত ১.৩০ ঘটিকার সময় মৃত কেরামত আলীর ছেলে মোঃ আলম (৩৮) এবং গাজীপুর শ্রীপুরের কেওয়া থেকে এমদাদুল এর বাড়ীর ভাড়াটিয়া মোঃ আবু কালাম মিয়ার ছেলে আরাফাত (২৬) কে ভোর ৫ ঘটিকার সময় গ্রেফতার করে। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা জানায় যে, গিয়াস উদ্দিন এর গ্যারেজে অটোরিক্সা রাখতো।ঘটনার রাতে গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আবুজর ও তার চাচাতো ভাই সবুজদের সাথে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে স্থানীয় মোঃ সাহাবুদ্দিন গংদের সাথে বিরোধ চরম পর্যায়ে থাকায় তাদেরকে ফাঁসানোর জন্য আসামীরা হত্যার পরিকল্পনা করে। আলমকে রাতে ফোন কল করে ডাকে।
আবুজর, সবুজ, আরাফাত ও অন্যান্যরা ঘটনাস্থলের পাশে আক্তারের দোকানে বসে চা খায়। সকলে একত্রিত হয়ে পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক রাতে গ্যারেজে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় ভিকটিম এর মাথায় ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনায় জড়িত মোঃ আলম গিয়াজ উদ্দীনকে হত্যার পর তার অটোরিক্সার ব্যাটারী পুরাতন হওয়ায় ভিকটিমের গ্যারেজে রাখা অন্য একটি নতুন অটোরিক্সা হতে ০৫ টি ব্যাটারী খুলে ব্যাটারীসহ তার অটোরিক্সা যোগে চলে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গিয়াস উদ্দিন হত্যাকান্ডে জড়িত স্বীকার করে।

এ বিষয়ে পিবিআই এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড । মূলত গিয়াস উদ্দীনের এর ছেলে আবুজর এবং ভাতিজা সবুজ তাদের সহযোগিদের সাথে পরিকল্পনা করে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশী প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য ঘটনার রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় গিয়াস উদ্দীনকে কুপিয়ে হত্যা করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা গিয়াস উদ্দিন হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদানের নিমিত্তে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে আসামীরা নিজেকে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অপরাপর আসামীদের নাম উল্লেখ করে মৃত গিয়াস উদ্দিন হত্যাকান্ডের বিষয়ে পরিকল্পনা এবং অন্যান্য আসামীদের কার কি ভূমিকা ছিল বিস্তারিত বর্ণনা করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।