print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,২০, সেপ্টেম্বর,২০২২

মেহেদী হাসান শাহীন
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ

এ দুর্ধর্ষ ডাকাত চক্রটি ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় দিন-দুপুরে ককটেল ফাটিয়ে ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে দীর্ঘদিন যাবৎ ডাকাতি করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুর কাশিমপুরের এনায়েতপুর আলীর জুট কারখানার সামনে দিন-দুপুরে মোটর সাইকেল ও অটোরিক্সা যোগে ৬/৭ জন ডাকাত শুক্রবার (১৬ আগষ্ট) জুমার নামাজের পর দুপুর ২ টার দিকে ককটেল বিস্ফোরণ ও চাপাতির আঘাতের মাধ্যমে ডাচ বাংলা ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং রকেট এর ডিএসএম শাহেদ শরীফের কাছ থেকে ৫,২২,০০০ টাকা ডাকাতি করে নিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামী ইউসুফ আলী রানা (৩৫) ও বিধান হালদার (৩১)কে কাশিমপুরের তেতুইবাড়ী সানসিটি এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে গত সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায় রাত পোনে ১ টার দিকে কাশিমপুরের লস্করচালা লোহাকৈর রোডের খান ব্রাদার্স এর খেলার মাঠে দেশীয় অস্ত্র সহ ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সমবেত হয়।

এসময় জিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার, অপরাধ (উত্তর) বিভাগ আবু তোরাব মোঃ শামছুর রহমানের নেতৃত্বে ৪ টি টিম একত্রিত হয়ে কাশিমপুরের লস্করচালার লোহাকৈর রোডের খান ব্রাদার্স এর খেলার মাঠের আশেপাশে গোপনে অবস্থান নেয়।
রাত আনুমানিক ১ টার দিকে কয়েকজন আসামী মাঠের ভেতরে প্রবেশের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ পুলিশ তাদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলে।

এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা অতর্কিতভাবে পুলিশের উপর আক্রমণ করে এবং তাদের নিকট থাকা বিস্ফোরক দ্রব্যাদি, চাপাতি দিয়ে হামলা করতে থাকে, তাদের কাছে থাকা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পুলিশের উপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে এবং বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রচন্ড শব্দ ও ধোঁয়ার সৃষ্টি করে। ডাকাতদের অতর্কিত আক্রমণের শিকার হয়ে পুলিশ নিজেদের জীবন ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষার্থে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে।

অন্ধকারের ভিতর ডাকাত দলের সদস্যরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালাতে থাকলে তাদের ছোড়া গুলির আঘাতে আহত হন নিজ দলের ডাকাত সদস্য সোলাইমান আকন (৪০) কে বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ঐ সময় ডাকাত দলের বিস্ফোরক দ্রব্যের আঘাতে কং/১০৮৩ মোঃ মোস্তাফিজার এর ডান হাতের বাহুতে জখম হয়।
উভয় পক্ষের গুলাগুলির পর ঘটনাস্থল হতে দৌড়ে পালানোর সময় ডাকাতদের ধাওয়া করে ৭ জনকে গ্রেফতার করা করা হয় এবং তারা ১২/১৩ জন ছিল বলে তাদের কাছে জানা যায়।
আহত ডাকাত সদস্যদের চিকিৎসার জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রেরণ করা হয়।