
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিপিসি (বোয়ালিয়া, পক্ষিয়া ও চরখালী) স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখায় নেই কোনো শিক্ষক-কর্মচারী। নেই পৃথক শ্রেণিকক্ষও। অথচ প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখায় শিক্ষার্থী রয়েছে। এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীরা পাস করতে পারেনি বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মেজবাহ উদ্দিন।
চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন শরিফুল সিকদার ও মো. আকতার হোসেন। দুজনই অকৃতকার্য হওয়ায় এ বছর কলেজটির পাসের হার শূন্য। এর আগের বছর ২০২৫ সালে চারজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন একজন।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে বিপিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখার অনুমোদন পাওয়ার পর বিপিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ওই বছর থেকেই উচ্চমাধ্যমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম এইচএসসি পরীক্ষায় ছয়জন অংশ নিয়ে পাস করেন একজন। ২০২৫ সালে চারজনের মধ্যে পাস করেন একজন। আর ২০২৬ সালে অংশ নেওয়া দুজনের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
সূত্রটি আরও জানায়, বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হননি। দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি রয়েছেন তিনজন। তবে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, কলেজ শাখায় কোনো শিক্ষক-কর্মচারী নেই। পৃথক শ্রেণিকক্ষও নেই। এ কারণে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে অনাগ্রহ রয়েছে।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, বিপিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুজন শিক্ষার্থীই এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ডেকেছেন। শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকলে তার ব্যবস্থা করা যাবে। তবে পরীক্ষার ফলাফল ও নিয়মিত ক্লাসের বিষয়টি প্রতিষ্ঠানকেই নিশ্চিত করতে হবে।



