
প্রকাশিত,২৮, জুন,২০২১
ফয়সাল চৌধুরী,কুষ্টিয়াঃ
কুষ্টিয়া জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আবারও
করোনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৫৫ নমুনা পরীক্ষা করে ১৭২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৯৪, দৌলতপুরের ২৫, কুমারখালীর ১৫, ভেড়ামারার ১৭, মিরপুরের ১৩ ও খোকসার ৮ জন রয়েছেন। একই সময়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ছয়জন ও কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা ওয়ার্ডে তিনজন মারা গেছেন। আজ সকাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে ১৩৭ জনসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭৫ করোনা রোগী চিকিৎসাধীন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬৫ জন।এ পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয় ৭ হাজার ৫ শত ২৯ জন।এ জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু বরণ করেছেন ১৯৮ জন।বতর্মান জেলায় মোট করোনায় আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা ২ হাজার জন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম একাত্তর ট্রিবিউনকে বলেন, জেলায় গ্রামপর্যায়ে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। এটা বর্তমানে স্থিতি অবস্থায় আছে। গড়ে শনাক্তের হার ৩০ শতাংশ। জুন মাসের ২৭ দিনে ৭৩ জন মারা গেছেন, তাঁদের ৭০ শতাংশ ৫৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী এবং গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামে আক্রান্ত হলেও তাঁরা শেষ পর্যায়ে হাসপাতালে সেবা নিতে যাচ্ছেন।
এদিকে কুষ্টিয়া জেলাজুড়ে প্রথম সাত দিনের কঠোর লকডাউনের মধ্যরাতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর আগেই ১ জুলাই সকাল ছয়টা পর্যন্ত লকডাউন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আজ সকাল থেকেই প্রায় সড়কে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে মানুষের ও যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় মানুষকে তেরে বাড়ী পাঠিয়েছেন এবং ডাক্তাররা বিশ্রামহীন রোগীদের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন। এই শহরের করোনা পরিস্থিতি ভালো হতে হলে সবার আগে আমাদের সবাইকে ভালো হতে হবে।সাস্থ্যবিধি নিষেধ, মাক্স , সামাজিক দুরুত্ব এক কথায় যা যা নিয়ম আছে তা সবাইকে মানতে হবে।কুষ্টিয়া শহরের একটু বাইরে হরিপুর,বাড়াদি ,জগতি, মুল্লা তেঘরিয়াতে সন্ধ্যার পরে এখনো মানুষের জটলা বাঁধে।দোকানের শাটার নামানো দোকানের মালিক দোকানের সামনে বসে শুধু বলতে হবে ভাই এই জিনিসটা দিন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। সন্ধ্যার পরে পুলিশ রাস্তার থেকে উঠে গেলে টিনএজদের ঈদ বেধে যায় ।
তাই এই শহরের মানুষদের দোষটা সরকারের ও প্রশাসনের না দিয়ে একবার ভাবুন আমরা কি করছি ? আমরা কি আমাদের দায়িত্ব পালন করছি? আমরা জানি করোনাভাইরাসে স্বজন হারানোর ব্যথা কি।


