
প্রকাশিত,২১, জুন,২০২১
ফয়সাল চৌধুরী ঃ
কুষ্টিয়াসহ ৭টি জেলায় যখন করোনা রুগীর প্রকপ বেড়েই চলেছিলো সে সময় করোনা টেষ্টে কোন ব্যবস্থা ছিলোনা এ অঞ্চলে। করোনা পরীক্ষার জন্য ঢাকা অথবা খুলনায় পাঠাতে হতো। বিষয়টি উপলব্ধি করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জননেতা মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কুষ্টিয়ায় ১ম দফায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন করেন।
এখানে কুষ্টিয়াসহ আশে পাশের ৭টি জেলার সন্দেহ ভাজন করোনা রুগীদের পরীক্ষা চলছে প্রতিদিন। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাবের রিপোর্ট অনুযায়ী আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। অথচ পিসিআর ল্যাব প্রতিষ্ঠার আগে এই জেলা ছিলো একেবারেই অন্ধকারে। পিসিআর ল্যাব প্রতিষ্ঠার পর জননেতা মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি এবার ১০০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিজের ব্যক্তিগত অর্থায়নে উপহার দিয়েছেন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া করোনা রুগীদের। এমন মানবতার নেতার প্রতি কুষ্টিয়াবাসীর বিদগ্ধ জনতার কৃতজ্ঞতা ও ঋণের শেষ নেই।
রবিবার দুপুরে ও সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ৫০টি করে দুইবার মোট ১০০টি অক্সিজেনের সিলিন্ডার কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।সোমবার রাত ৯ টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ।
এ দিকে করোনা ওয়ার্ডে গত ৪০১ দিনের অধিক সময় ধরে স্বেচ্ছায় কাজ করছেন
জেলা ছাত্রলীগের একঝাঁক কর্মী। নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ
সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ। বেশ কয়েকজন কর্মী নিয়ে রোগীদের কাছে গিয়ে
অক্সিজেন নিয়ে ছোটাছুটি করছে এবং অন্যান্য সেবা দিচ্ছেন তারা।তার মধ্য
নাহিদ হাসান নামে একজন সোমবারে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে কুষ্টিয়া
জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন।এই তথ্যটি নিশ্চিত
করেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ।
হাসপাতালের তথ্য বলছে, ৩টি ওয়ার্ডে করোনা বেডের সংখ্যা ১০০টি। সোমবার রাত ৯টার পর্যন্ত সেখানে ভর্তি আছেন ১৪৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার- সোমবার) তিনটি ওয়ার্ড রোগীতে টইটম্বুর। বেড ছাড়িয়ে মেঝেতে ভর্তি আছে অনেক রোগী। করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা অর্ধেক রোগীর ২৪ ঘণ্টা অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে
হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় রোগীদের অক্সিজেন সাপোর্টের দরকার হচ্ছে
বেশি। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি অর্ধেকের বেশি রোগীকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হচ্ছে।সে জন্য অক্সিজেন সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সবোর্চ্চ চেষ্টা চলছে।
হাসপাতালে রবিবার পর্যন্ত ৩৪৭টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ছিল।
এদিকে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ সোমবার দুপুরে আরো ৫০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার পাঠিয়েছেন বর্তমানে ৩৯৭টি রয়েছে। তবে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি সিলিন্ডার রিফিল করতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেনসংশ্লিষ্টরা।
রবিবার সকাল আটটা থেকে সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় এই হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি থাকা তিনজনের জনের মৃত্যু হয়েছে।
একই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৩ জনের। সংক্রমণের হার স্থিতিশীল থাকলেও গত তিন দিনের তুলনায় মৃত্যুর হার কমেছে। তবে হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে ১৩২ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।যেখানে শয্যাসংখ্যা ১০০টি।তবে রাত ৯টার সময় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ জানান বর্তমানে ১৪৩ জন হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মোমেন বলেন, রোগীদের চাপ সামাল দিতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে।
উপজেলা থেকে ১০ জন চিকিৎসককে জেনারেল হাসপাতালে আনা হচ্ছে। ভর্তি থাকা অন্য রোগীদের শহরের দুটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে বিধিনিষেধ চলার পরও করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। রোগী হু হু করে বাড়ছে। এটা অশনিসংকেত রোগীদের সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।


