print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

সুমন ইসলাম, লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোঁতামারী ইউনিয়নের দইখাওয়া উত্তর আমঝোল এলাকায় সীমান্তপথে মাদক চোরাচালানের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ময়না (পিতা: কুতুব আলী)-এর বিরুদ্ধে ভারত থেকে মাদক এনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। একাধিকবার সংবাদ প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তের ৯০৫/৫-এস থেকে ৯০৭ নম্বর মেইন পিলারসংলগ্ন এলাকা ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, দইখাওয়া, আমঝোল ও বনচুকি এলাকায় সরবরাহ করা মাদকের একটি অংশ এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করে।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথিত দুই মাদক কারবারি দাবি করেন, ভারত থেকে মাদক সংগ্রহের ক্ষেত্রে ‘ময়না’ নামের ওই ব্যক্তির সহায়তা নেওয়া হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থের বিনিময়ে তিনি সীমান্তপথে বিভিন্ন ভারতীয় পণ্যও এনে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সীমান্ত এলাকার পথঘাট ও চলাচল সম্পর্কে তার ভালো ধারণা রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান ও সীমান্তে নজরদারি জোরদারের কথা বলা হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এখনো কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা কিংবা সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায়নি।

এদিকে, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এমন চোরাচালানের অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কীভাবে সক্রিয় থাকার সুযোগ পাচ্ছেন, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগগুলোর পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহল কিংবা দায়িত্বশীল কারও সহযোগিতা রয়েছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হলে সীমান্তপথে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করবে এবং মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনবে।