

প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হালিমুল হোসেন রাসেলকে পুনরায় সংগঠনের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চান তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তাদের মতে, স্মার্ট ও তৃণমূলকেন্দ্রিক ছাত্রদল গঠনে রাসেলের মতো সাহসী, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ সংগঠকের বিকল্প নেই।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাসেল দীর্ঘদিন ধরে দলীয় আদর্শে অটল থেকে রাজপথে সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে একসময় যখন উপজেলা ছাত্রদলের দায়িত্ব গ্রহণের মতো উপযুক্ত কেউ ছিল না, তখন তিনি সাহসিকতার সঙ্গে সংগঠনের হাল ধরেন। তৃণমূল থেকে কর্মী গড়ে তুলে প্রতিটি কর্মসূচি ও আন্দোলনে উপস্থিত থেকেছেন, অংশ নিয়েছেন, এবং সবার মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়েছেন।
২০২০ সালের ভয়াবহ করোনা মহামারির সময় রাসেলের নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে প্রায় তিন শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এই ত্রাণ আসে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় বোনের ছেলে, প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের পক্ষ থেকে। শুধু তাই নয়, সেই সময়ে তিনি নিজে মাঠে নেমে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান ও হাট-বাজার জীবাণুনাশক স্প্রে বিতরণ করেন।
দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়ার পর গত ৫ মার্চ ২০২৪ সালে জিআর ৫/১৯ নাশকতার মামলায় রাসেলকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে আরও উজ্জীবিত হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফেরেন। গত জুলাইয়ের আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় করে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেন তিনি। কিন্তু ২৫ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে RAB-13 গ্রেফতার করে। ৫ আগস্ট পরে মুক্তি পান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতির সময়ে ডোমার-ডিমলার সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের নির্দেশে সহযোদ্ধাদের নিয়ে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ও সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি মাঠে কাজ করেন রাসেল। এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়ায়।
উপজেলা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল ইসলাম বলেন, “রাসেল ডিমলা উপজেলা ছাত্রদলের একটা ব্র্যান্ড। তিনি আন্দোলন-সংগ্রামের সামনের সারির নেতা। শুধু জনপ্রিয় নন, তিনি কর্মীদের অনুপ্রেরণার নাম।”
একজন সিনিয়র নেতা জানান, “দীর্ঘদিন রাসেল উপজেলা ছাত্রদলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। সদর ভিত্তিক উপজেলা কমিটিতে তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনতে পারলে তার সৃজনশীল চিন্তা ও মেধা ডিমলা উপজেলা ছাত্রদলকে স্মার্ট সংগঠনে রূপান্তর করবে।”
সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভাষায়, রাসেল নামটি এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসার প্রতীক। তারা মনে করেন, রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে তিনি আগামীর ‘মডেল ডিমলা’ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবেন।
উপজেলা মহিলা দলের এক নেত্রী বলেন, “রাসেল জাতীয়তাবাদী পরিবারের সন্তান। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তিনি নির্যাতন ও মামলার শিকার হয়েছেন। তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হলে আগামীর ছাত্রদল আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে। তরুণ প্রজন্মের বড় অংশকে একত্রিত করে আগামী নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারবেন তিনি।”
তৃণমূল কর্মীদের মতে, রাজপথ কখনো বেঈমানী করে না। তারা বিশ্বাস করেন, রাসেল তার অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন পাবেন এবং সংগঠনের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আবারও আসবেন।


















আপনার মতামত লিখুন :