print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,

মো: জহুরুল ইসলাম।
ডিমলা(নীলফামারী)প্রতিনিধি

তিস্তায় পানি থাকলেও এখন মাছ আর নাই, কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।
আগের দিন গুলো  নদীতে মাছ পাইতাম অনেক মনটায় আনন্দ ছিল।

এখন তিন মাস থেকে নদীতে পানি  থাকলেও মাছ পাই না, বর্তমান হামার পরিবার নিয়া খুব কষ্টে আছি।

তিস্তা নদীতে মাছ না পাওয়ায় খালি হাতে বাড়ি ফেরার সময় এভাবেই কথাগুলো  বলে জেলে মজিদুল ইসলাম।

তিস্তা ব্যারাজ থেকে শুরু করে তিস্তা বিস্তীর্ণ এলাকা এবং সেচ প্রকাল্পের নালায় এই মৌসুমে পানি রমরমি  চলছে কিন্তু মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে তিস্তা পারের  হাজারো জেলে।

নদীতে মাছ না থাকায় পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর দিন পার করছে তারা।

সেই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন ৬৩ চরের হাজারো খেটে খাওয়া সাধারন  মানুষ। সরেজমিনে জানা গেছে লালমনিরহাটের ৫ টি উপজেলা তিস্তা, ধারলা, সানিয়াজানসহ মোট ১৩ নদীবেষ্টিত এলাকার হাজারো জেলে মাছ ধরে ধরে জীবিকা নির্বাহ করে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে প্রতিদিন তিস্তাসহ কয়েকটা নদী পানি পূরন হয়ে পড়ে। 

প্রতিবছরের চেয়ে এবছর ৩ থেকে ৪ মাস মাছ ধরতে না পারায় জেলে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটান।  তিন মাস থেকে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য স্থায়ী দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের  ঋনের  টাকা নিয়ে জীবনযাপন করেন।

অনেকে দিনমজুরি, কেউবা জাল সেলাই করে উপার্জনের চেষ্টা করে। তিস্তা নদীতে পানিতে ঐতিহ্যবাহী বৈরাল মাছ।

ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সুস্বাদু এই মাছটি জেলেদের জালে আগের মতো ধরা পড়ে না। 

সারা  দিন  ধরে দু- এক কেজি যেটুকু পাওয়া যায় বাজারে বিক্রি হয় কিন্তু সেই সীমিত টাকা দিয়ে জেলে দের পরিবার চলে না।

অন্য দিকে তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় মাছ ধরা নিষেধ থাকলেও কয়েকজন জেলেরা  জীবিকা নির্বাহের জন্য ছোট নৌকা নিয়ে মাছ ধরার অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু আগের মতো  সেই, তিস্তা নদীতে মাছ  আর নেই।