
প্রকাশিত
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের মীমাংসা বৈঠককে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও শিক্ষক মো. তছলিম উদ্দিন বাবলু মাস্টার (৫৯)।
অভিযোগে বিবাদী হিসেবে মো. খায়রুল আলম নয়ন (৩২), পিতা—মো. তাজুল ইসলাম দুদু, সাং—উত্তর মরুয়াদহ এবং মো. শহিদুল আকন্দ (৫০), পিতা—মৃত আব্বাস আলীসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ মরুয়াদহ বাগানের ঘাট এলাকার মো. হাবিবুর রহমানের মেয়ে মোছা. নূর হাওয়া ওরফে ধলি এবং উত্তর রাজিবপুর এলাকার মো. কাশেম আলীর ছেলে মো. আব্দুল মেন্নাফের দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।
এ বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে গত ৩০ সেপ্টেম্বর শোভাগঞ্জ বাজারে উভয় পক্ষের লোকজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক ও সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে উভয় পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা করা হয়। এ সময় মেয়ের দেনমোহর বাবদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা তার অভিভাবক মো. আজাহার মাস্টারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, ওই সালিশ বৈঠকে সাংবাদিক হিসেবে মো. খায়রুল আলম নয়ন ও মো. শহিদুল আকন্দ উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ছেলেপক্ষ ও মেয়েপক্ষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় ছাপড়হাটি ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোখলেছুর রহমান ওরফে মুকুল মাস্টার এবং ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক তছলিম উদ্দিন বাবলু মাস্টারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা ও অপপ্রচারমূলক বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।
এতে তাদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। অভিযোগের সঙ্গে ফেসবুকে প্রকাশিত কয়েকটি পোস্টের স্ক্রিনশটও সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে সাক্ষী হিসেবে মো. কাশেম আলী, মো. মশিউর রহমান, মো. মাসুদ রানা, মো. রাসেল মিয়া, মো. জাহাঙ্গীর মণ্ডল ও মো. জালাল আহমেদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক তছলিম উদ্দিন বাবলু মাস্টার বলেন, “আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এর আগে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচারের ঘটনা ঘটেনি। ফেসবুকে মিথ্যা ও অপপ্রচার চালানোর কারণে এলাকায় এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে আমার সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
অভিযোগকারী সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।



