
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
শরতের নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘ। এরই মধ্যে মহালয়ার আগমনী সুরে পটুয়াখালীর গলাচিপায় বইতে শুরু করেছে শারদীয় দুর্গোৎসবের হাওয়া। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমার গায়ে মাটির প্রলেপ শুকাচ্ছে, কোথাও চলছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। রং-তুলির শেষ আঁচড়ে দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার অপেক্ষায় কারিগরেরা।
এবার গলাচিপা পৌরসভা ও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ২৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে। এর মধ্যে পৌরসভা এলাকায় চারটি এবং ইউনিয়নগুলোতে রয়েছে ২২টি মণ্ডপ। পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, মণ্ডপগুলোতে ততই বাড়ছে ব্যস্ততা।
বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় এক মাস ধরে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। বাঁশ, কাঠ ও খড় দিয়ে তৈরি কাঠামোর ওপর দেওয়া হয়েছে মাটির প্রলেপ। কয়েক দফা মাটি দেওয়ার পর প্রতিমার অবয়ব ফুটে উঠেছে। এখন চলছে মুখাবয়ব, অলংকার ও অন্যান্য সূক্ষ্ম কাজ। এরপর রং-তুলির আঁচড়ে মাটির প্রতিমায় ফুটে উঠবে প্রাণবন্ত রূপ।
প্রতিমাশিল্পীরা জানান, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারা কাজ করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। প্রতিমার আকার ও কারুকাজের ধরন অনুযায়ী একটি প্রতিমা তৈরিতে ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকার বেশি পারিশ্রমিক নেওয়া হয়। দুর্গাপূজার মৌসুমে একজন মৃৎশিল্পী সাধারণত আট থেকে ১০টি প্রতিমা তৈরির কাজ করেন।
কারিগরদের ব্যস্ত হাতের ছোঁয়ায় মাটির অবয়ব ধীরে ধীরে যেন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। কোথাও শুকিয়ে যাচ্ছে মাটির শেষ প্রলেপ, কোথাও শিল্পীর তুলির অপেক্ষায় প্রতিমা। মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে সমানতালে।
পূজামণ্ডপ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আবহ শুরু হয়েছে। এখন শুধু প্রতিমায় রং-তুলির শেষ আঁচড় এবং মণ্ডপসজ্জার কাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষা। এরপর ঢাকের বাদ্য, ধূপের গন্ধ আর আলোকসজ্জায় মুখর হয়ে উঠবে গলাচিপার মণ্ডপগুলো।
মাটির কারিগরের নিপুণ হাতে যে প্রস্তুতির শুরু, তা পূর্ণতা পাবে দেবীর বোধন, আরাধনা ও মানুষের আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে। শরতের নির্মল আকাশের নিচে গলাচিপায় এখন তাই অপেক্ষা শারদীয় দুর্গোৎসবের।



