
প্রকাশিত
আয়নাল ইসলাম।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে চিকিৎসা শিক্ষা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের দুই কৃতি সন্তানকে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন। দেশের শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবদান, গবেষণা, মানবসেবা এবং দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তাঁদের এ সম্মানে ভূষিত করা হয়।
সম্মাননাপ্রাপ্ত দুই গুণী ব্যক্তিত্ব হলেন— অধ্যাপক ডা. এম. এ. হাদী (মরণোত্তর), যিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য এবং দেশের একজন প্রখ্যাত ইউরোলজিস্ট ছিলেন। তাঁর পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন তাঁর সহধর্মিণী খালেদা বেগম।
অপরদিকে অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস (মরণোত্তর), দেশের একজন বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিসেবে চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।
তাঁর পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন তাঁর পুত্র ডা. আব্দুল্লাহ আল আরাফাত।
চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং মানবকল্যাণে তাঁদের আজীবন অবদান দেশের স্বাস্থ্যখাতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁদের কর্মময় জীবন নতুন প্রজন্মের চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন।
গফরগাঁওয়ের এই দুই গুণী শিক্ষকের জাতীয় পর্যায়ে মূল্যায়ন ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রাপ্তিতে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে। এলাকাবাসী মনে করেন, তাঁদের এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি গফরগাঁওবাসীর জন্যও এক বিরল সম্মান ও গৌরবের বিষয়।
শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে যাওয়া এই দুই মহান ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে গফরগাঁওবাসী তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তাঁদের অবদানকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
গফরগাঁওয়ের মানুষের বিশ্বাস, অধ্যাপক ডা. এম. এ. হাদী এবং অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস তাঁদের কর্ম, আদর্শ ও মানবসেবার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।



