print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির খন্দকারের বাড়ির বেড়া ও ফলজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে আলমগীরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। খবির খন্দকারের দাবি, তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা হিসেবে এসব করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আলমগীরের দাবি, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি সরকারি হালট এবং কয়েকটি পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা।

ঘটনাটি মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী গ্রামে। জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

বেড়া ও গাছ কাটার অভিযোগ

বাটিকামারী গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির খন্দকার গত ২৩ আগস্ট প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি বলেন, গত ১২ আগস্ট বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আলমগীরের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে বেড়া ও ফলজ গাছ কেটে ফেলেন। এতে তাঁর প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

খবির খন্দকারের অভিযোগ, এ ঘটনার পর থেকে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চলছে। তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। মামলার সাক্ষীদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। মামলা তুলে না নিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগে আলমগীরের সঙ্গে থাকা কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন খবির খন্দকার। তাঁদের মধ্যে লায়েক মাতাব্বর, কাউসার মাতাব্বর, ছিদ্দিক মাতাব্বর ও জাহাঙ্গীর আলম জংগীর রয়েছেন।

খবির খন্দকার বলেন, ঘটনার সময় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখেন এবং তাঁকে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এ ঘটনায় গত ১৩ আগস্ট মুকসুদপুর সি.আর. ৬০৪/২৬ নম্বরে আদালতে মামলা করেন খবির খন্দকার। তাঁর দাবি, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে মুকসুদপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।

‘জায়গাটি সরকারি হালট’

অভিযোগ অস্বীকার করে আলমগীর বলেন, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি তাঁদের কয়েকটি পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা। জায়গাটি আগে থেকেই সরকারি হালট হিসেবে পরিচিত বলে তাঁরা জানেন।

আলমগীর বলেন, “এই জায়গাটি আমাদের কয়েকটি পরিবারের চলাচলের রাস্তা। আগে থেকেই আমরা জায়গাটিকে সরকারি হালট হিসেবে জানি। বহু বছর ধরে আমরা সবাই এই পথ দিয়ে চলাচল করি। সরকারি জায়গায় সরকারি রাস্তা হলে আমি মনে করি, এটা সবার জন্যই ভালো।”

তিনি বলেন, তাঁরা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখল করতে যাননি। জায়গাটির মালিকানা নিয়ে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তা সরকারি রেকর্ড ও কাগজপত্র যাচাই করলেই পরিষ্কার হবে।

আলমগীর আরও বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যে দখলের অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত বিষয়টি বের করুক। জায়গাটি সরকারি হলে সেখানে সরকারি রাস্তা হওয়াটাই সবার জন্য ভালো হবে।”

‘জায়গাটি সরকারি’, বলছেন জাহাঙ্গীর

আলমগীরের ভাই জাহাঙ্গীর আলমও দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি সরকারি। তাঁর দাবি, জায়গাটি খবির খন্দকারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “জায়গাটি সরকারি। এটা কারও ব্যক্তিগত জায়গা নয়। খবির খন্দকার যদি জায়গাটি তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করেন, তাহলে তাঁর মালিকানার কাগজপত্র দেখাতে হবে। প্রশাসন তদন্ত করে যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমরা সেটাই মেনে নেব।”

‘পৈতৃক সম্পত্তি’, দাবি খবিরের

অন্যদিকে খবির খন্দকারের দাবি, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন।

খবির খন্দকার বলেন, “বৃদ্ধ বয়সে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

ঘটনার প্রতিবাদে গত ১৭ আগস্ট খবির খন্দকার, তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা মানববন্ধন করেন। সেখানে তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ভূমি অফিসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

বিরোধপূর্ণ জায়গাটি সরকারি হালট নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন—এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ ইব্রাহীম খলীলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমিটির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে। এক পক্ষ জায়গাটিকে পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করছে, অন্য পক্ষ বলছে এটি সরকারি হালট এবং কয়েকটি পরিবারের চলাচলের রাস্তা।

জমিটির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সরকারি রেকর্ড, খতিয়ান, দাগ নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বেড়া ও গাছ কাটার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে উভয় পক্ষ।