
প্রকাশিত
রবিউল হোসাইন সবুজ, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে কুমিল্লার লাকসামে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুছ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, লাকসাম শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ জশনে জুলুছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশগ্রহণ করেন।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর জশনে জুলুছে অংশ নিতে সকাল থেকেই আল্লাহ ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা পশ্চিমগাঁও গাজী শোহেদা ইয়ামেনী (রহ.) দরগাহ জামে মসজিদের সামনে সমবেত হতে থাকেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে কালিমার পতাকা, বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়। অনেকে পিকআপ ও বিভিন্ন যানবাহনে করে জুলুছে অংশ নেন।
নাতে রাসুল (সা.) পরিবেশন, দরুদ-সালাম এবং ‘নারায়ে তাকবির—আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে লাকসামের রাজপথ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জশনে জুলুছটি পৌরশহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
জশনে জুলুছটি পশ্চিমগাঁও গাজী শোহেদা ইয়ামেনী (রহ.) দরগাহ জামে মসজিদ থেকে শুরু হয়ে লাকসাম পৌরশহরের প্রধান সড়ক দিয়ে দৌলতগঞ্জ বাজার, বাইপাস ও হাউজিং এলাকা অতিক্রম করে চাঁদপুর রেলগেট প্রদক্ষিণ করে। পরে জুলুছটি লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজারের ধান বাজার চত্বরে এসে শেষ হয়।
সেখানে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, কর্ম, শিক্ষা ও আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা করা হয়। বক্তারা মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, মানবিকতা, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
পরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ এবং বিশ্বমানবতার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতের মধ্য দিয়ে জশনে জুলুছের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
জশনে জুলুছকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে লাকসাম থানা পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। জুলুছের পুরো রুটজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনসমাগমস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
এ ছাড়া জুলুছ চলাকালে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করেন। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে আয়োজকদের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ, শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও সুন্নাহর শিক্ষা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করাই এ জশনে জুলুছের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লাকসাম ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, কুমিল্লা জেলা সভাপতি আলহাজ্ব মীর মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক জশনে জুলুছে অংশগ্রহণকারী ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। তিনি মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, কুমিল্লা জেলার সভাপতি মীর মোহাম্মদ আবু বকরের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ জশনে জুলুছে উপস্থিত ছিলেন মুফতি মাওলানা এম. এ. তাহের, মাওলানা এমদাদুল হক জিহাদী, আলহাজ্ব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী, মাওলানা রবিউল হোসেন হেলালী, সাইফুল ইসলাম আল-কাদরী, মাওলানা আনোয়ার হোসেন সিরাজী, মো. মহিউদ্দিনসহ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মুসলমান।



