
প্রকাশিত
গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আলিপুরা ইউনিয়নের চাঁদপুরা মৌ বাড়িয়া গ্রামের এক নম্বর ওয়ার্ডের দেব দুলাল কৃষ্ণ সমাধারের বাড়িতে ১১টি (মেহগনি ) গাছ কেটে ফেলেছে ভাতিজারা- এ অভিযোগ চাচার।
ক্ষতিগ্রস্ত গাছের মালিক দেব দুলাল কৃষ্ণ সমাদ্দার।
তিনি বলেন, আমার ভাই সুভাস চন্দ্র সমাদ্দার ওরফে (গোসাই) মৃত্যু বরণ করায় তার দুই ছেলে পিন্টু সমাদ্দার ও অরুণ সমাদ্দার ( রাসেল) নব মুসলিম । আমার বাড়ির সামনে রাস্তায় ১১টি মেহগনি গাছ জোরপূর্বক গাছের বেপারী মস্তফা মিয়াকে দিয়ে কাটানো হয়। পরে ঘটনাস্থলে একই এলাকার জসিম মোল্লা , ইসহাক ফরাজী, নিজাম মোল্লা, ইউসুফ মাতব্বর,অলিউল ইসলাম সহ আরও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পিন্টু সমাদ্দার ও অরুণ সমাদ্দার (রাসেল) কে নিয়ে চাঁদপুর কালামিয়ার বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসা হয়। সেখানে গাছের বিষয় নিয়ে এলাকাবাসীর সালিশির কথা হয় ।
পরে রবিবার রাত আনুমানিক ৯ টায় গলাচিপার হাসপাতাল রোডে শ্যামল বারুই চায়ের দোকানে দুপক্ষকে নিয়ে ওই এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসেন। সালিশির বিচারকরা দেব দুলাল সমাদ্দারকে গাছ বাবদ পিন্টু সমাদ্দার ও অরুণ সমাদ্দার রাসেলকে লিখিত আকারে রেপে ৫২ হাজার টাকা দিয়ে দেন। এ বিষয়ে দেবদুলাল সমাদ্দার বলেন, বাড়ির সব জমি আমার । আমার কোন সন্তান না থাকায় আমার ভাইরা আমার সাথেই থাকে। আমার ভাইয়ের ছেলেরা আমার জায়গার গাছ জোরপূর্বক কাটায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে রেপে লিখিত আকারে পিন্টু সমাদ্দার অরুণ সমাদ্দার রাসেলকে ৫২ হাজার টাকা দিয়েছি। এ বিষয়ে পিন্টু সমাদ্দার বলেন, আমার কাকা দেবদুলাল সমাদ্দার আমাকে ও আমার ভাইকে ৫২ হাজার টাকা দিয়েছে। আমরা শালিশি গনের মাধ্যমে রেফ কাগজে লিখিত দিয়ে টাকা নিয়েছি।এ বিষয়ে অরুণ সমাদ্দার রাসেল বলেন, কাকার কাছ থেকে আমিও টাকা নিয়েছি। একই এলাকার সালিশগং জসিম মোল্লা বলেন, দেবদুলাল সমাদ্দার গাছ বাবদ পিন্টু সমাদ্দার ও অরুণ সমাদ্দার রাসেলকে ৫২ হাজার টাকা দিয়েছে। ও বেপারী মোস্তফার গাছ কাটার লেবারদের জন্য আমাদের সালিশির কাছে ৬ হাজার টাকা দিয়েছে। এছাক ফরাজী বলেন, গাছ বাবদ দেবদুলাল সমাদ্দার আমাদের মাধ্যমে তার ভাইয়ের ছেলেদের ৫২ হাজার টাকা দিয়েছে।
নিজাম মোল্লা বলেন, কাটিস পেপারে লিখিত আকারে দেয়া হয়েছে। যদি কোন ব্যক্তি কাগজের বাহিরে কিছু করতে চায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে দেবদুলাল সমাদ্দার। ইউসুফ মাতুব্বর বলেন, আমাদের একই এলাকার পাঁচ জন সালিশ গংএকত্রিত হয়ে দেবদুলাল সমাদ্দার এর কাছে এসে বিষয়টি সমাধান করা হলো। অলিউল ইসলাম বলেন, গাছের বাবদ পিন্টু সমাদ্দার ও অরুণ সমাদ্দার রাসেলকে টাকা দেওয়া হয়েছে গাছ এখন দেবদুলাল সমাদ্দারের। পরে দেবদুলাল সমাদ্দার ও জসিম মোল্লা বলেন, গায়ের জোরে চিকনিকান্দি ইউনিয়নের কোটখালি নামক স্থানের গাছ বেপারী মোস্তফা গাছগুলো নিয়ে যায়। এ বিষয়ে গাছ ব্যাপারে মোস্তফার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পিন্টু সমাদ্দার গাছের বাবদ আমার কাছ থেকে ৪৬ হাজার টাকা নিয়েছে। তাই আমি গাছ নিয়েছি। এ বিষয়ে পিন্টু সমাদ্দারের মুঠোফোনে ফোন দিলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। দশমিনা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



