
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামে দীর্ঘদিনের জমি-জমা বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কৃষিকাজে ব্যবহৃত কয়েকটি ট্রাক্টর ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছৈলাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ছৈলাবুনিয়া মৌজার জেএল নম্বর-১০-এর সিএস খতিয়ান নম্বর ২৪০/২৪১-এর রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন নিকুঞ্জ মাঝি, পিতা হর কুমার মাঝি। ওই খতিয়ানে তাঁর মোট জমির পরিমাণ ৫ একর ৮৫ শতাংশ বলে দাবি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি, নিকুঞ্জ মাঝি জীবিত থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করেন। এর মধ্যে মো. মুজিবুর রহমান তালুকদারের কাছে ৫০ শতাংশ, ইব্রাহিমের কাছে ২৫ শতাংশ, নুর আলম হাওলাদারের কাছে ২৫ শতাংশ এবং মো. বাদল হালদারের কাছে ৫০ শতাংশ জমি বিক্রি করেন তিনি।
পরবর্তীতে নিকুঞ্জ মাঝির মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকার ও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সংশ্লিষ্ট সংখ্যালঘু পরিবার ও মুজিবুর রহমান তালুকদার গংয়ের দাবি, পটুয়াখালী জজ কোর্টের রায়ে নিকুঞ্জ মাঝির কাছ থেকে জমি ক্রয়কারীদের পক্ষে ১ একর ৫০ শতাংশ জমির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। অবশিষ্ট জমির মালিকানা নিয়েও আদালতে সিদ্ধান্ত হয় বলে তাদের দাবি। পরে মামলাটি উচ্চ আদালতে গেলে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকে বলেও দাবি করেন তারা।
তবে দীর্ঘদিন ধরে মো. হারুন, দেলোয়ার ও নাসির মৃধাসহ কয়েকজন ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আদালতের রায়ের পর জমিতে চাষাবাদ ও দখল বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের অভিযোগ, শনিবার সকালে আদালতের রায়ের কাগজপত্র নিয়ে জমিতে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষ নাসির মৃধার লোকজন লাঠি, দা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে নিকুঞ্জ মাঝির উত্তরাধিকারী, জমি ক্রয়কারী ও প্রতিপক্ষের লোকজনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
আহতদের কয়েকজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পটুয়াখালীতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এর আগে জমিতে কৃষিকাজের জন্য দিনমজুর ও ট্রাক্টর নিয়ে গেলে রাস্তায় গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং ট্রাক্টরের ওপর লাঠি ও গাছের গুঁড়ি দিয়ে হামলার অভিযোগও উঠেছে নাসির মৃধা গংয়ের বিরুদ্ধে। এতে ট্রাক্টর ও অন্যান্য যানবাহনের প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের অভিযোগ, সংখ্যালঘু হওয়ায় আদালতের নিম্ন ও উচ্চ আদালতের রায় তাদের পক্ষে থাকার পরও প্রতিপক্ষের বাধার কারণে তারা নিজেদের পৈতৃক কৃষিজমি ভোগদখলে নিতে পারছেন না। এ ঘটনায় প্রশাসনের সহযোগিতা ও আইনগত নিরাপত্তা দাবি করেছেন তারা।
তবে প্রতিপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আমখোলা ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামের জমি-জমা বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



