
প্রকাশিত
সুমন ইসলাম লালমনিরহাট।
মাদক ও মারাত্মক ছোয়াচে ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়া অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই যেন কাল হলো লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলামের (৩৫) জন্য। দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে টানা নয় দিন ধরে তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এই শিক্ষার্থীর এখনও জ্ঞান ফেরেনি। এদিকে, এই ন্যাক্কারজনক হামলার সাথে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে লালমনিরহাটের মোগলহাট এলাকায় মানববন্ধন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সর্বস্তরের এলাকাবাসী।
স্থানীয় ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ সামাজিক আন্দোলন আলোকিত লালমনিরহাট এর একজন সক্রিয় প্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় মাদক ও অনলাইন জুয়াবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন আরিফুল। সম্প্রতি তিনি আদিতমারী উপজেলার গন্ধমরুয়া এলাকার চিহ্নিত জুয়াড়ি রহিদুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের এই অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে বলেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
এই ঘটনার জের ধরে গত ১ আগস্ট কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে রহিদুলের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মাথায় কোপ মেরে তাকে গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে দ্রুত ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আরিফুল ইসলাম যখন আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, ঠিক তখনই গত বৃহস্পতিবার তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। বাবার কোলজুড়ে যে শিশুর আসার কথা ছিল, সেই বাবা আজ হাসপাতালের শয্যায় অচেতন। আনন্দ আর আশার বদলে পরিবারটিতে এখন নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা ও শোকের ছায়া।
অনলাইন জুয়াড়ি রহিদুল ও তার দলের অপকর্মে অতিষ্ঠ সীমান্তবর্তী এ এলাকার মানুষ। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই মিলত হুমকি ও নির্যাতন। গত ২ আগস্ট আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে রহিদুলকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার নয় দিন পার হলেও মূল অভিযুক্ত ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে। উপরন্তু, জামিন পাওয়া অন্যান্য আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আরিফুলের পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নাজমুস সাকিব সজীব জানান, ঘটনার পরপরই মামলা নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। পলাতক প্রধান আসামি রহিদুলসহ বাকি জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে রয়েছে।
সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এবং সম্ভাবনাময় এক তরুণ শিক্ষকের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত প্রধান আসামিসহ সকল সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।



