
প্রকাশিত
অনলাইন ডেস্ক :
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর আটক হওয়া লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুক্তি পেয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘৭ লোক কল্যাণ মার্গ’-এর সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি রাতভর অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলে দিল্লি পুলিশ তাকে আটক করে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যায়। পরে কয়েক ঘণ্টা পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে মন্দির মার্গ থানায় রাখা হয়। রাতে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কিছু সময় অবস্থান করার পর সোনিয়া গান্ধী থানার বাইরে চলে যান। পরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকেও মুক্তি দেওয়া হয়।
এর আগে সোমবার পুলিশ ও সিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আটক আরও ৭০ জনকে মঙ্গলবার ছেড়ে দেয় দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে ছয়টি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর এই কর্মসূচির কঠোর সমালোচনা করেছেন বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে রাহুল গান্ধীর আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।”
এদিকে রাতে দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। তিনি সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও অংশ নেন।
মঙ্গলবার সকালে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে জড়ো হন দলটির নেতা-কর্মীরা। পরে সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের উদ্দেশে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও অংশ নেন।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং মোতায়েন করা হয় র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ)। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন।
ঘটনাস্থলে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনা করলেও কংগ্রেস নেতারা তাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।
এদিকে বিজেপির একটি সূত্র দাবি করেছে, পুরো কর্মসূচিটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির নেতা সোমনাথ ভারতী অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী আন্দোলনের মূল বিষয়টিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ছাত্র-যুবদের আন্দোলনের প্রতি প্রকৃত সমর্থন জানাতে চাইলে রাহুল গান্ধীর যন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক নাটক বলে আখ্যায়িত করছে।



