print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক।

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে মাঠপর্যায়ের মহড়া পরিদর্শন করেছেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করে সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, কৌশলগত প্রস্তুতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবধর্মী অনুশীলন প্রত্যক্ষ করেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীন ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বিস্তীর্ণ প্রশিক্ষণ এলাকা পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন এবং সেনাসদস্যদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) এবং ইউনিটের কমান্ডিং অফিসার (সিও) তাঁকে চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, যুদ্ধ প্রস্তুতি ও কৌশলগত সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা (Verbal Order) মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত ‘রেইড’ (Raid) মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

প্রশিক্ষণ এলাকার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের যুদ্ধকালীন অবস্থান, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের নানা দিক পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি একটি সেনা বাঙ্কারে প্রবেশ করে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চান।
এ সময় গাছপালার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছেও গিয়ে তাঁদের খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। দায়িত্ব পালনে তাঁদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে তিনি উৎসাহব্যঞ্জক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
মহড়ার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা খাবার গ্রহণ করেন এবং তাঁদের সঙ্গে চা পান করেন। প্রধানমন্ত্রীর এ আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ সেনাসদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর আস্থা ও বিশ্বাস রাখে। জাতীয় দুর্যোগ, সংকট মোকাবিলা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী সবসময় গৌরবময় ভূমিকা পালন করে আসছে।”
তিনি বলেন, “বিশ্বমানের পেশাদার বাহিনী হিসেবে নিজেদের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করতে হলে প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে। আধুনিক ও দক্ষ সেনাবাহিনী গঠনে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের দেশপ্রেম, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেন এবং বাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান।, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিকসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সেনাবাহিনীর সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রতি সরকারের গুরুত্ব ও অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনকে সেনাবাহিনীর জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।