
প্রকাশিত
মো. শিহাব উদ্দিন
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) একটি টেলিগ্রাম অফিস দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি ওই ভবনে প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর ধরে সপরিবারে বসবাস করছেন বিটিসিএলের এক কর্মকর্তা। এ ঘটনায় সরকারি সম্পদের ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের টেলিগ্রাম অফিস হিসেবে পরিচিত ভবনটির মূল ফটকে থাকা পরিচিতিমূলক লেখাগুলো প্রায় মুছে গেছে। সাইনবোর্ডটিও ঝুলে আছে অবহেলিত অবস্থায়। অফিস কক্ষের ভেতরে দাপ্তরিক পরিবেশের পরিবর্তে দেখা যায় খাট, আলমারি, টেলিভিশন, রান্নার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিটিসিএলের জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক (ইন্টারনাল) (অঃদাঃ) এস এম তৈয়াবুর রহমান প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর ধরে মাঝেমধ্যে পরিবার নিয়ে ওই ভবনে বসবাস করছেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহার করেই সেখানে আবাসিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, এস এম তৈয়াবুর রহমান গোপালগঞ্জ শহরের নবীনবাগ এলাকায় ব্যক্তিগতভাবে জায়গা কিনেছেন। তবে সরকারি অফিস ভবনে থাকার প্রয়োজনীয়তা ও অনুমোদনের বিষয়টি নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সরকারি একটি অফিস কীভাবে একজন কর্মচারীর ব্যক্তিগত বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি তদন্ত করে দেখা দরকার।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিসিএলের জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক (ওএসপি) আব্দুর রহমান বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”
পরে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) অপূর্ব সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মুন বলেন, “আমি বর্তমানে রাজবাড়ীতে আছি। গোপালগঞ্জের অফিস আগে ডিজিএম অফিস ছিল, পরে ফরিদপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে। তৈয়াবুর রহমানের বিষয়ে আমার জানা নেই।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে এস এম তৈয়াবুর রহমান বলেন, “সেখানে থাকার অনুমতি আমার আছে।” অনুমতির কোনো নথি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি তা দেখাতে রাজি হননি।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, সরকারি ভবন ব্যক্তিগত আবাসিক কাজে ব্যবহারের বিষয়টি সত্য হলে তা সরকারি সম্পদের ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির বিষয়টি সামনে আনে। তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিটিসিএলের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবনটির বর্তমান ব্যবহার ও অনুমোদনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি একটি অফিস যদি দীর্ঘদিন আবাসিক কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায় ছিল।



