
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
গলাচিপায় নবনির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি উদ্বোধনের আগেই দুর্নীতির এক জীবন্ত মডেলে পরিণত হয়েছে। “ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণেও হাত বাড়াল দুর্নীতিবাজরা”—এলাকাবাসীর এমন ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালছে খোদ নির্মাণ শ্রমিকদের স্বীকারোক্তি। তাদের দাবি, এই প্রকল্পের অন্তত ৮০ শতাংশ কাজই করা হয়েছে নিয়মবহির্ভূতভাবে।
ফাটলে ঢাকা পড়েছে আস্থার দেয়াল
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাজ শেষ হওয়ার আগেই মসজিদের বিভিন্ন দেয়ালে ও পিলারে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে দ্বিতীয় তলায়। সেখানে একটি কক্ষের ফ্লোর (মেঝে) ইতিমধ্যেই ডেবে গেছে, যা পুরো কাঠামোর স্থায়িত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু ও সিমেন্টের সংমিশ্রণে নয়, বরং ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ দিয়ে দাড়ি-পাল্লা ভারী করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নির্মাণ শ্রমিক জানান, রড থেকে শুরু করে ঢালাইয়ের মালপত্র—সবক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের সামগ্রী। তাদের ভাষ্যমতে: আমাদের ওপর চাপ দিয়ে অনেক জায়গায় নিয়ম মেনে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। যে পরিমাণ সিমেন্ট দেওয়ার কথা ছিল, তার অর্ধেকও ব্যবহার করা হয়নি। দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদে কাঠামোর কোনো কিউরিং (পানি দেওয়া) ঠিকমতো করা হয়নি।”
একটি সরকারি মেগা প্রকল্পে এমন ভয়াবহ অনিয়ম চললেও তদারকি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে চরম বিতর্ক। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন—”তদারকি করার কি কেউই নেই?” ইঞ্জিনিয়ার ও প্রজেক্ট সুপারভাইজারদের উপস্থিতিতে কীভাবে একটি ধর্মীয় স্থাপনায় এতো বড় মাপের জালিয়াতি সম্ভব হলো, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্বোধনের আগেই যদি ফ্লোর ডেবে যায় এবং ফাটল ধরে, তবে সাধারণ মুসল্লিদের জন্য এই মসজিদটি একটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হতে পারে। সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত হেনেছে এই অনিয়ম।
এখন এলাকাবাসীর দাবি একটাই—অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এই “মডেল দুর্নীতির” সাথে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা এবং মসজিদের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তবেই তা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।



