
প্রকাশিত, ১৮-১২-২০২০
তরিকুল ইসলাম রতনঃ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
বরগুনার সদর উপজেলায় ৫ বছরের এক শিশু কন্যাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মতি সিকদার (৫০) নামের এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
জানা যায়, বরগুনায় চাচাতো দাদা কর্তৃক ৫ বছরের শিশু নাতিকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে-বরগুনা সদর উপজেলার ৭ নং ঢলুয়া ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামে ।
গত বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে ভুক্তভোগী কন্যা শিশুটি তাদের বাড়ির আঙিনায় খেলা করতে ছিলো।পরে তার চাচাতো দাদা মতি সিকদার তাকে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করেন। শিশুটির মা বাড়িতে না থাকায় এঘটনা ঘটে। মা বাড়িতে আসলে তার কাছে শিশুটি সবকিছু খুলে বলে। পরে এঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
শিশুটির মা কোন উপায় না পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল টিটুকে বিষয়টি জানান এবং পরে চেয়ারম্যান শিশুটিকে বরগুনা সদর থানায় নিয়ে আসতে বলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম তারিকুল ইসলাম দ্রুত চিকিৎসার জন্য এই শিশুটিকে বরগুনা জেলা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির মা বলেন, আমার স্বামী দেশের বাহিরে থাকে । গত বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে আমার মেয়েটি বাড়ির আঙিনায় খেলা করতে ছিলো । সেখান থেকে আমার চাচা শশুর মতি সিকদার আমার মেয়েকে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করেন । পরে মেয়ে ঘরে এসে আমার কাছে কেঁদে কেঁদে এসব বলে। পরে প্রাথমিকভাবে আমার চাচা শশুরের কাছে এবিষয় জিজ্ঞেস করলে সে তা অস্বীকার করেন এবং আমাকে নানা ভয়ভীতি দেখান।
আমি কোন উপায় না পেয়ে আমাদের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি খূলে বলি এবং সে আমার মেয়েকে থানায় নিয়ে আসতে বলে। আমি বরগুনা সদর থানায় নিয়ে আসি এবং অভিযুক্তকারীর বিরুদ্ধে আমি একটি মামলা দায়ের করি। আমার অবুঝ শিশুর উপর যে অমানবিক নির্যাতন করেছে আমি তার সুষ্ঠ বিচার চাই।
এ ব্যাপারে বরগুনা সদর উপজেলার ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল টিটু বলেন, আসলে এবিষয়টি খুবই দুঃখ জনক এবং হৃদয় বিদারক। পাঁচ বছরের একটি নাবাল্লক কন্যা শিশুর উপরে এরকম অত্যাচার কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। আম এর সুষ্ঠ বিচার চাই। যাতে আর কোন নরপশু এরকম কাজ করতে সাহস না পায়।
তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনার বিচার আমরা করতে পারি না। তাই আমি ভিকটিমকে আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি। যাতে আইনের মাধ্যমে তারা সঠিক বিচার পায়।
এবিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, অামি বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি এবং নিশ্চিত হওয়ার পরে ভিকটিম ও তার মা থানায় আসে। পরে তাদের মুখ থেকে আমি বিস্তারিত শুনেছি।
তিনি আরও বলেন, ভিকটিম শিশুটিকে আমরা চিকিৎসার জন্য দ্রুত বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যাবস্থা করেছি এবং এব্যাপারে মতি সিকদার (৫০) নামের এক জনকে আসামী করে একটি মামলা রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে এবং বর্তমানে আসামীকে গ্রেফতারের জন্যে আমাদের অভিযান অভ্যাত রয়েছে বলেও তিনি জানান।


