
প্রকাশিত,০৮, মার্চ,২০২৩
কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লা মনোহরগঞ্জে উপজেলার হত্যার মামলার সূত্র ধরে আসামির পক্ষের হামলায় এক পরিবারের বাবা-ছেলেসহ চারজন আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
(সোমবার) ৬ মার্চ দুপুরে উপজেলার বাইশগাঁও ইউনিয়নের কেয়ারী গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন- হারুন অর রশিদ তার ছেলে ইমরান হোসেন, আরমান ও শাহাদাত হোসেন।এদের মধ্যে গুরুতর আহত হারুন অর রশীদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার বিকালে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।অন্যরা মনোহরগঞ্জ ও লাকসাম উপজেলায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কেয়ারি গ্রামের ২০১৩ সালে একটি হত্যার ঘটনা ঘটে, সেই হত্যার ঘটনার মামলার আসামি করা একই গ্রামের ফারুকসহ কয়জনকে। তাদেরকে আসামি করায় নিয়ে বিভিন্ন সময় মামলার
বাদীর আত্নীয় স্বজন হারুন অর রশিদকে বিভিন্ন সময় মামলা তুলে নিতে একাধিকবার তাদের বাড়ি ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও হুমকি দেয় হত্যার আসামির পক্ষে লোকজন। এ ঘটনায় নিয়ে হারুন রশীদ হত্যার আসামি ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে পৃথক-পৃথক ভাবে কুমিল্লা কোর্টে ও মনোহরগঞ্জ থানায় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।
এ ঘটনার সূত্র ধরে চলতি বছরের ৬ মার্চ সোমবার সকাল ১১ টার সময় কেয়ারী বাজারে হারুন রশীদের দোকানে হামলা ভাংচুর চালিয়ে হারুন রশীদসহ তার ছেলেদেরকে কুপিয়ে আহত করে মামলার আসামির পক্ষে লোকজন।
আহত হারুন রশীদের স্ত্রী রায়হানা বেগম বলেন,
আমার স্বামী হারুনুর রশিদ ওই দিন দোকান থেকে বাড়ি উদ্দেশ্যে রওনা দিলে কেয়ারী গ্রামের দেওয়ান মিয়ার ছেলে ওমর ফারুক (৩৫), ফয়েজ উল্লাহ ছেলে হৃদয় (২৬) ও আবদুল, আরাফাতসহ ৩০/৪০ জন স্থানীয় সন্ত্রাসীরা চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দোকানে হামলা করে ভাংচুর চালায়। এবং আমার স্বামীকে এলোপাতাড়ি ভাবে লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে তাহার মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার মধ্যে লুটিয়ে পড়ে।তার কাছে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয় লোকজনের আত্মচিৎকারে আমার সন্তানেরা এগিয়ে আসলে তাদেরকে পিটিয়ে আহত করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এই ব্যাপারে থানা বা কোর্টে মামলা করলে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী লোকজন দিয়ে আমাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয় স্থানীয় হামলাকারীরা। সন্ত্রাসী ফারুক ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা বিরুদ্ধে কুমিল্লা আদালতে হত্যা মামলাসহ ১৫/২০টি মামলা চলমান রয়েছে। তাহাদের ভয়ে এলাকার লোকজন সবসময় আতংকগ্রস্থ থাকে। আমি প্রশাসনের কাছে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিচার চাই।
এ বিষয় অভিযুক্ত ফারুক বলেন, হারুন রশীদ এক সময় বিএনপি করতো, সেই দল থেকে আওয়ামী লীগের যোগ দেন। আমাদের দলে এসে বিভিন্ন সময় সরকারের বিরুদ্ধে আজে-বাজে কথা বিএনপি ও জামায়াতে সন্ত্রাসীদের কাছে বলেন।এ নিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করতে গেলে সে আমাদের দলেরকর্মী উপর হামলা করে। এবং তাদের দুইটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে হারুন রশীদের লোকজন।
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সফিউল আলম বলেন, কেয়ারী গ্রামে দুই পক্ষে মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মামলার বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছে। শুনেছি সোমবার সকালে তাদের মধ্যে যে হামলা ঘটনা ঘটেছে দুই পক্ষে লোকজন থানায় কোন অভিযোগ করে নাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


