
প্রকাশিত,১৩, জানুয়ারি,২০২৩
আইয়ুব খান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
ধর্ষণের পর খুন করে নদীতে ফেলে দেয়ার ৭ দিন পর পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার রূপারচর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ভাসমান অবস্থায় সেই শিশুর (১২) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে গভীর সাগর থেকে লাশটি তীরে আনা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া ও সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হবে বলে জানান রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম মজুমদার। তিনি জানান, ‘রূপারচর সংলগ্ন শীবচর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের গভীর সাগর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।’
লাশ উদ্ধার অভিযানে থাকা চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সজল কান্তি দাস বলেন, লাশ উদ্ধারকালে শিশুর গায়ে থাকা জামা এবং তাকে যে চাদর দিয়ে পেচিয়ে ফেলা হয়েছিল;সেটিও পাওয়া যায়। তবে শরীরের বিভিন্ন অংশ পচে গলে বিকৃত হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।’ তিনি আরও বলেন, লাশ তীরে এনেছি। পরিবার শনাক্ত করার পর ময়নাতদন্তে পাঠানো হবে।
গত ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরের সাগরপাড় বাজার থেকে রসদ (নিত্যপ্রয়োজণীয় পণ্য) কিনে ফেরার পথে নিখোঁজ হয় ওই শিশু। পরদিন ৭ জানুয়ারি দুপুরে চরআন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার একটি পুকুর পাড় থেকে তার পায়ের একটি জুতা আর বাজার থেকে কেনা রসদ এবং খাল সংলগ্ন বিলের মাঝে পাওয়া যায় ওড়না। নিখোঁজের এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওইদিন রাতে আল আমিন নামের এক অটোরিশকা চালককে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে স্থানীয় লোকজন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে অপহরণ করে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে খুন করার পর বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করে ওই অটো চালক।
এ ঘটনায় ৮ জানুয়ারি রাতে রাঙ্গাবালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। হত্যাকাÐের শিকার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অটো চালক আল আমিনকে প্রধান এবং একমাত্র আসামি করে এই মামলা করেন (মামলা নম্বর-৩)। এ মামলায় ৯ জানুয়ারি আসামিকে আদালতে হাজির করলে স্বীকারোক্তিমূলক ঘটনার বিস্তারিত জবানবন্দি দেন।


