print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,০৯, নভেম্বর,২০২২

মিন্টু খন্দকার স্টাফ  রিপোর্টারঃ

শেরপুরের নকলায় এক সেনা সদস্যের বশত ভিটা দখলের চেষ্ঠার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পৌরসভাধীন কায়দা (বেগুনপট্রি) এলাকায়। এ ব্যপারে দফায় দফায় দেন দরবার করেও কোন সমাধান মিলছেনা বলে অভিযোগ করেন সেনা সদস্যের পরিবার।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার কায়দা (বেগুনপট্রি) এলাকার আহম্মদ আলী প্রায় তিন বছর আগে একই এলাকার দুলাল মিয়ার কাছে ৪ শতাংশ জমি সাব কবলা মূলে বিক্রি করেন এবং দুলাল মিয়া সেই জমি ভোগ দখল শুরু করেন। দুলাল মিয়া আর্থিক সংকটে পড়ায় আহম্মদ আলী ও তার দুই পুত্র শফিকুল ইসলাম ও মুহিদুল ইসলামের নিকট সেই জমি বিক্রির প্রস্তাব করলে তার জমি ক্রয় করতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়। পরে দুলাল মিয়া এ বছরের ৩ আগস্ট সেনা সদস্য শরিফুল ইসলাম হৃদয় এর কাছে ৪ শতাংশ জায়গা সাব কবলা বিক্রি করে। যার দলিল নং- ৩৪৬১। শরিফুল ইসলাম হৃদয় তার ক্রয়কৃত জমিতে ঘর থাকার ঘর নির্মাণ করা শুরু করে। হঠাৎ করেই শফিকুল ইসলাম ও মুহিদুল ইসলাম দুই ভাই মিলে নির্মাণকৃত বাড়িঘর দখলের চেষ্ঠা করে এবং সেনা সদস্যকে বিভিন্ন হুমকী প্রদান করে।

খোরশেদ আলম বলেন, দুলালের কাছ থেকে জমির খাজনা ও খারিজ দেখেই ৪ শতাংশ জমি আমার ভাগিনা শরিফুল ইসলাম হৃদয়কে ক্রয় করে দেই। সে যাতে বশতবাড়ি করে থাকতে পারে। আমার ভাগিনার জন্মের দুই বছর পরে তার বাবা মারা যান। সে এতিম ছেলে। শুধু তাইনা দুলালের জমির দলিলের স্বাক্ষী ছিল আহম্মদ আলী’র পুত্র শফিকুল ইসলাম। এই জমির সাথে বর্তমানে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। এ বিষয়ে আমার বোন রহিমা খাতুন বাদী হয়ে নকলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

রহিমা বেগম বলেন, আমার পুত্র শরিফুল ইসলাম হৃদয়কে ঘর তুলতে বাধা সৃস্টি করেছেন শফিকুল ও মুহিদুল। শুধু তাই না, আমাদের ফাঁসাতে নিজেদের এক খালি ঘরে তারাই আগুন লাগিয়ে দেয় এবং সেই আগুন নিভানোর চেষ্ঠা না করে মুহিদুল মোবাইলে ভিডিও করে। কারো ঘরে আগুন লাগলে আগে ঘরের জিনিসপত্র রক্ষা করাসহ আগে আগুন নিভাবে নাকি সেই আগুনের পুড়ার ভিডিও করবে। এতে স্পষ্ট বুঝা যায় আগুন লাগানোটা ছিল তাদের পরিকল্পিত।

দুলাল মিয়া জানান, আমি প্রায় তিন বছর আগে আহম্মদ আলী’র কাছ থেকে ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করি। পরে এই জমির নিয়মিত খাজনাও দেই এবং ভোগ দখল করেও আসতেছি। হাঠাৎ আমার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় আহম্মদ আলী’র দুই ছেলে শফিকুল ও মুহিদুলকে বলি যেহুতু আপনাদের বাবার জমি আমি ক্রয় করেছিলাম। আমি এখন বিক্রি করে দিব। আপনারা যদি নিতে পারেন তাহলে আপনাদেরই ভাল হবে। কারন আপনাদের জমিই আপনাদেরই রইল। কিন্তু তারা ক্রয় করে নিতে অস্বীকার করায় সেনা সদস্য শরিফুল ইসলাম হৃদয়ের কাছে বিক্রি করে দেই।

আহম্মদ আলী’র পরিবার অভিযোগ করে বলেন, আমরা দুলাল মিয়ার কাছে ৪ শতাংশ জমি বিক্রি করেছি ঠিকই। কিন্তু যে জায়গা দিয়ে জমি সাব কবলা করার কথা ছিল দুলাল মিয়া চালাকি ও প্রতারণা করে অন্য জায়গা দিয়ে কবলা করে নেয়। আমরা যেটা বিক্রি করেছি সেটা এই জায়গা না।