
প্রকাশিত,১৭, অক্টোবর,২০২২
আশিকুর রহমান (ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
এ নিয়ে হোমনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই হাসপাতালে দফায় দফায় প্রসূতির মৃত্যু হলেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পাড় পেয়ে যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের কাছে মৃত্যু একটা খেলা।
গত শুক্রবার কুমিল্লা হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোডে অবস্থিত হোমনা সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল অপারেশনে মাহমুদা আক্তার (৩৭) নামের এক প্রসুতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে।পৃথিবীর আলো না দেখেই বাচ্চাটিও মায়ের পেটেই মৃত্যুর মুখে পতিত হতে হয়েছে।
এবারের মৃত্যু নিয়ে ৪ (চার) জনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো সেন্ট্রাল হাসপাতালে। আর কত মৃত্যু মিছিলে তালিকা ভুক্ত হবে অন্য আরেক জন।
প্রসূতি মায়ের সিজার অপারেশনের এক পর্যায়ে ডা: দিলশাদ বেগম ভুলে এসেসথেসিয়া দেয়া ছাড়াই সিজার অপারেশন করার জন্য কাচি চালালে রোগী চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরবর্তীতে অপারেশন সম্পন্ন না করে ক্ষতস্থান দায়সারা বেন্ডেস করে তড়িঘড়ি করে ঢাকায় রেফার করে।
লোকজনের অভিযোগ ডা: দিলশাদ বেগম নিদিষ্ট ক্লিনিকে চেম্বার করেনি। উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চুক্তিতে সিজারিয়ান অপারেশন করে থাকেন।
গত কাল শুক্রবার বিকালে ডাঃ দিলশাদ বেগম কমিশনের লোভে রোগীকে কোন রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা না করে হাসপাতালে ভর্তি করায় এবং প্রস্তুতি ছাড়াই অপারেশন শুরু করেন।
পরে রোগীর অবস্থা খারাপ হলে তড়িঘড়ি করে তাকে ঢাকায় রেফার করেন। কিন্ত অপরেশনের ক্ষতস্থানের রক্ত বন্ধ না হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রাস্তায়ই তার মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য ইতিপূর্বেও হোমনা সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছিলো। এ নিয়ে ভুল চিকিৎসায় ৪ জনের মৃত্যু হলো।
জানাগেছে, হোমনা সেন্ট্রাল হাসপাতালের কোন বৈধ কাগজপত্র বা লাইসেন্স নেই। এই হাসপাতালে মালিক পক্ষ নিজেদের মধ্যে শেয়ার নিয়েও বিচার মামলা চলছে হোমনা থানায়।
প্রশাসনের চোখের সামনে এ হাসপাতালে একের পর একাধিক ঘটনা ঘটলেও রহস্যজনক কারনে পার পেয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে ডাঃ দিলশাদ বেগমের মুঠোফোনে ফোন করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া য়ায়। তবে হাসপাতালের পরিচালক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন,রোগীর আলগা দোষ ছিল। অপারেশন করার সময় রোগীর অবস্থা খারাপ হলে ডাঃ মেডাম তাকে ঢাকায় রেফার করেন। পরে রাস্তার মাঝেই তার মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে রোগীর আত্মীয় স্বজনের কোন অভিযোগ নাই।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ আবদুছ ছালাম সিকদার জানান, আমি মাসিক সভায় বরুড়ায় আছি। কোন অভিযোগ পাইনি। তার পরেও তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) রুমন দে বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে কথা বলে তদন্তপূর্বক এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


