
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মামলার বাদি বলেন, ‘টাকার কাছে কি সবাই বিক্রি হয়ে যাবে? আমি গরিব মানুষ, রিকশা চালাই, তাই বলে কি আমরা বিচার পাব না? আমার মেয়ের ইজ্জত গেছে। এখনো কি তার কোনো স্বীকৃতি মিলবে না?
৮ বছর ধরে চলছে একটি ধর্ষণ মামলা। এক দশকের বেশি সময় আদালতের বারান্দায় কাটিয়ে মামলার বাদির প্রশ্ন, ৮ বছর ধরে মামলা চালাচ্ছি, কত বছরে পাবো ধর্ষণের বিচার?ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা।নানা কারণে বার বার যুক্তিতর্ক পিছিয়ে যাওয়াকে সন্দেহের চোখে দেখছেন ভুক্তভোগী বিচার প্রত্যাশীরা। দীর্ঘ ৮ বছরে ও যুক্তিতর্ক শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাদিপক্ষ। এসময় আদালতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মামলার বাদি ও ভুক্তভোগী নারীর রিকশাচালকের স্ত্রী জাহানারা বেগম।
, ভুক্তভোগী নিজে ও তার কন্যা। একপর্যায়ে তারা চিৎকার-চেঁচামেচি ও হট্টগোল শুরু করলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি শান্ত করেন।তিনি বলেন, থানা পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ধর্ষণের অভিযোগে আসামি মো. সগীর হাওলাদার পিতা সেলিম হাওলাদার বরগুনা বাড়ি, বর্তমানে তিনি ঢাকার ধোলাই পার ভাঙ্গারির ব্যবসা করেন। বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে মামলাটি যুক্তিতর্কের জন্য রাখা হয়। বিভিন্ন অজুহাতে যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়নি বলে বাদিপক্ষ অভিযোগ করে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করছি, কিন্তু বাদিপক্ষ আজ আমাকেই ভুল বুঝছে। অথচ, আমি বেশিদিন হয়নি দায়িত্ব নিয়েছি। যারা আগে ছিলেন তারা কী করেছেন? এ বিষয়ে ভক্ত ভুগির বাবা রিক্সা চালক সোরাব গাজী বলেন, মামলাটি করে আজ পথে বসে গেছি। রিক্সা চালিয়ে জীবন সংসার চালাতে হয়। থাকতে হয় আবাসন প্রকল্পে।কি যে করব ভেবেই পাচ্ছিনা। তিনি আরো বলেন,আসামি সগীরপর ভয়ে ঢাকা ছেড়ে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর নামক স্থানে আবাসন প্রকল্পে বসবাস করি। আদালতের মাধ্যমে আমার মামলাটি পটুয়াখালী জেলা নারী শিশু আদালতে আনব। ভুক্ত ভুগির ভাই রাকিব গাজী বলেন, আমরা আদালতের মাধ্যমে মামলার আসামি সগীর হাওলাদের সঠিক বিচার চাই। ভুক্তভোগীর চাচী হনুপা বেগম বলেন, আদালতের মাধ্যমে সগীর হাওলাদার এর সঠিক বিচার একান্ত প্রয়োজন।ভুক্তভোগী ভাইয়ের বৌ নাসিমা বেগম বলেন, ধর্ষক মামলার আসামি সগীর হাওলাদারের সঠিক বিচার চাই। ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, আসলেই সোরাব গাজী গরিব মানুষ। মামলাটি করে পথে বসে গেছে। রিক্সা চালিয়ে সংসার চালাতে হয়। সরকারি আবাসনে থাকে। তাদের মামলার সঠিক বিচার হলে। পরিবারটি সুন্দর ভাবে বাঁচতে পারবে। এলাকাবাসীর দাবী যাতে সোরাব গাজী মেয়ের মামলা সঠিক বিচার পেয়ে বাঁচতে পারে।



