
প্রকাশিত, ১১ জানুয়ারি, ২০২১
এম এইচ লিপু মজুমদার ধরমপাশা, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলায় শ্যামাচরণ বর্মণ (৬৫) নামের এক মৎস্যজীবীকে গলা কেটে হত্যা,জলমহালে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনার অভিযোগে স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে রতন ও তাঁর আপন ছোট ভাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন ওরফে রোকনসহ ৬৩জন আসামি করে গত শনিবার সন্ধ্যায় ধরমপাশা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়। এই অভিযোগটি করেন নিহতের ছেলে ও সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি চন্দন বর্মণ (৩০)। কিন্তু অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করেনি পুলিশ। সুনই জলমহালে ইজারা নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের মনাই নদী প্রকাশিত সুনই জলমহালটি জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনাধীন।
১৪২২বঙ্গাব্দ থেকে ১৪২৭বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ছয় বছরের জন্য এটি ইজারা পায় সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি।
সমিতির সভাপতি চন্দন বর্মণ যথারীতি জলমহালটির খাজনা পরিশোধ করেন।
একই সমিতির সভাপতি দাবি করে উপজেলা চেয়ারমানের অনুসারী সুবল বর্মন (৩০) তিনমাস আগে জলমহালটির পাড়ে দুটি ঘর নির্মাণ করেন। তবে জলমহালটি নিয়ে একই সমিতির দুটি পক্ষের উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় আদালতের আদেশে এটি স্থিতিবস্থা রয়েছে।
মামলার বাদী সুনই মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি চন্দন বর্মণের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে সমিতির সহসভাপতি নিহত শ্যামাচরণ বর্মণের ছোট ভাই মনীন্দ্র চন্দ্র বর্মণ (৫৫) বলেন, বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে আমাদের সুনই জলমহালের খলায় ঢুকে আমার ভাইকে গলা কেটে হত্যা করা, খলা ঘরে অগ্নিসংযোগ, হামলা করে আমাদের মারধর করা সহ যা ঘটনা ঘটেছে তার সবকিছুতেই সাংসদ (এমপি) ও উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশ রয়েছে।
ওসি সাহেব আমাদের বলেছিলেন,এমপির নাম বাদ দেন মামলা নেব,নয়তো নেব না। আমাদের অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভূক্ত না করায় ওই রাতেই অভিযোগটি আমরা ফেরত নিয়ে এসেছি।
এ ঘটনায় আমরা আদালতে মামলা করবো।
উপজেলা চেয়ারম্যান রোকনের মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সাংসদ রতন এ ঘটনায় জড়িত নেই বলে সাংবাদিকদেরকে জানিয়ে বলেন,প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে একটি পক্ষ এ ধরণের প্রচারণা চালাচ্ছে।
সুনই জলসহাল নিয়ে একই সমিতির দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে।আমি ঘটনার দিন ধরমপাশায় ছিলাম না।
এতে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না।
ধরমপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগটিতে বেশ কিছু ক্রুটি থাকায় এটি সংশোধন করে পরে তা নিয়ে এসে থানায় জমা দেওয়ার কথা ছিল ।
কিন্তু রোববার রাতে নিহত পরিবারের কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। আমাকেে জড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় রাতে থানার এসআই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৬০-৬৫জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ওই জলমহালটিতে এক জেলেকে হত্যার ঘটনায় থানার ওসির কাছে দেওয়া লিখিতভাবে অভিযোগটি বাদী পক্ষের লোকজন সংশোধন করার জন্য নিয়ে গেছেন বলে আমি জানতে পেরেছি। অভিযোগটি পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুকনা কেন তাঁদেরকে খোঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। #


