
প্রকাশিত,২৩, সেপ্টেম্বর,২০২৩
সোহাগ হোসেন বেনাপোল থেকেঃ
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগ আঁচড়া থেকে ছয়টি পিস্তল ও১৯ রাউন্ড গুলি সহ কুখ্যাত গোল্ড নাসিরকে আটক করেছে র্্যাব ৬ সদস্যরা।
অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ২ টি বিদেশী পিস্তল, ১ টি ওয়ান শুটার গান, ৩টি রিভালবার।
শুক্রবার (২২শে সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে শার্শার বাগআচঁড়া হাইস্কুল মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে খুলনা র্যাব-৬ এর সদস্যরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা র্যাব-৬ এর অধিনায়ক ফিরোজ কবির।
উল্লেখ্য বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রতিদিন যে পরিমাণে সোনা পাচার হয়। তার ৭০ শতাংশ শার্শা উপজেলার বেনাপোল দৌলতপুর, পুটখালী সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে থাকে। এই সোনা চোরাচালানী সিন্ডিকেট মাধ্যমে ঢাকা থেকে আসে সোনার চালান পৌঁছে দেয়া হয় ভারতের বনগাঁর গৌতমের ডেরায়। এ অনৈতিক ব্যবসা অবলম্বনের মাধ্যমে গত ১০ বছরে ফক্কা(শূন্য) নাসির গোল্ড নাসিরে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ঘরামী রমজানও গোল্ড নাসির পরিণত হয়েছে। হয়েছে সীমান্তের শত কোটি টাকার মালিক। তার পুটখালী, বেনাপোল, যশোর, ঢাকা এবং ভারতে তৈরি হয়েছে আলীশান বাড়িও বিলাসবহুল গাড়ি।
সীমান্তের সূত্রগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক সোনা পাচার সিন্ডিকেটের হোতাদের অন্যতম ডন হচ্ছে পুটখালীর ‘কুখ্যাত’ রমজান গড়ে তুলেছে বিশাল সাম্রাজ্য। পাচারকারী ছাড়াও এই চক্রের রয়েছে বিশাল বাহিনী। বাহিনী সদস্যদের অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও আসে ভারতের বনগাঁর বস্ গৌতম ও অপুর কাছ থেকে। রমজানের সিপাহশালার খ্যাত মহব্বত, মিলন সরদার, আলম সরদার, হাসান, কদম আলী, মনি, বিল্লাল, হাবিবুর (ডিপজল) মুনছুর সহ অন্ততঃ ৪০ থেকে ৫০ জন ক্যাডার রয়েছে এই বাহিনীতে। এসব সশস্ত্র সদস্যরা সোনার চালান গুলো এসকর্ট করে সীমান্ত ওপারে বস্ গৌতম ও অপুর কাছে পৌঁছে দেন। এ সব সদস্যরা সোনার বিনিময়ে ভারত থেকে নিয়ে আসে অস্ত্র এবং ফেন্সিডিল, ইয়াবা ও হিরোইনের চালান। তবে নাসির আটকের পর এলাকায় জোর দাবি উঠেছে রমজান আটকের বিষয়টি।
সীমান্তের সূত্রগুললো আরো জানায়, বেনাপোলে সোনা পাচারের শীর্ষ দুই ডনের মধ্যে রমজান ঢাকার আওলাদ, ইমরান, আরিফ, ফরিদপুরের সজলদের আন্ডারে থাকা ক্যারিয়াররা ঢাকার বায়তুল মোকাররম সোনার মার্কেটসহ পল্টন এবং পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারের নির্ধারিত ডিলারদের কাছ থেকে সোনার চালান নিয়ে আসে। এসব সোনার চালান স্কট করে নিয়ে রমজান এবং তার বাহিনী পৌছে দেয় ভারতের সবচেয়ে বড় ডিলার অপু, বস্ গৌতম, ছোট গৌতম, দীপাঙ্কর, রাজীব, অজয়, পিন্টু, বরুণ, অনূপ, ডাকুসহ বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কাছে। তবে নাসির আটক হলেও রমজান আটক না হওয়ায় এলাকায় চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে দাবি করেছে শীর্ষ এ চোরাকারবারী ও মাদক ব্যবসায়ী রমজানকে অচিরেই আটক করা হোক।
প্রেরক, সোহাগ হোসেন
বেনাপোল যশোর
২৩/৯/২৩


