
প্রকাশিত
সুমন ইসলাম, লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সরলখাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলমকে পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের বিদ্যালয়টিতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১২ জনকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল এবং একজনকে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনোয়ারুল, হামিদুল, সিয়াম ও সামিউল এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুবেল রয়েছেন।
প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতি নিয়ে বিরোধ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম। ওই সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তিনি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি। একপর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্র লিখিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রধান শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নেয়। তাঁকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন তারা। গত মাস থেকে এ দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করে শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করা হয়।
পরে উপজেলা প্রশাসন প্রধান শিক্ষককে স্বপদে বিদ্যালয়ে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে স্থানীয় একটি পক্ষের বিরোধিতার কারণে তাঁর বিদ্যালয়ে ফেরা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কয়েক দিন ধরে এ নিয়ে এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
বিদ্যালয়ে ফিরতেই হামলার অভিযোগ
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল তাঁকে মারধর করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা বাধা দিতে এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে প্রধান শিক্ষকসহ ১৩ জন আহত হন।
খবর পেয়ে আদিতমারী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিরাগতরা হামলা চালিয়েছে
আহত শিক্ষার্থী মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “আগে না বুঝে প্রধান শিক্ষকের বিরোধিতা করেছিলাম। পরে তাঁকে ছাড়া বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হতে দেখে পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি। মঙ্গলবার স্যার বিদ্যালয়ে এলে ৪০ থেকে ৫০ জন বহিরাগত এসে শিক্ষকসহ আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমরা আহত হয়েছি। আমরা প্রধান শিক্ষকের পুনর্বহাল এবং হামলাকারীদের বিচার চাই।”
প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষ ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দিয়ে আসছিল। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে গেলে ৪০ থেকে ৫০ জন আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা করা হয়।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশের বক্তব্য
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরলখাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধান শিক্ষককে পুনর্বহাল নিয়ে সৃষ্ট এ বিরোধের জেরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



