print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,৩০, মার্চ,২০২২

বেড়া-পাবনা প্রতিনিধিঃ

২৭মার্চ রবিবার বেড়া পৌরসভাধীন ৮নং ওর্য়াড আলহেরা নগরের ক্যানালের পাশের জমিতে রক্তাক্ত অবস্থায় লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসি থানা পুলিশকে খবর দেয়।খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বেড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)অরবিন্দ সরকার।বেড়া-সাঁথিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সার্কেল)কল্লল কুমার দত্ত সহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার লাশ উদ্ধার করে।নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।পরে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মর্গে পাঠানো হয়।এঘটনায় ইমরান এর বাবা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।হত্যাকান্ডের বিষয়টি সবোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জনাব মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম পুলিশ সুপার পাবনা সার্বক্ষনিক মনিটরিং করেন।হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন আসামী গ্রেপ্তার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে
জেলাপুলিশ ফেসবুক আইডিতে প্রেস রিলিজ দিয়েছেন জেলা পুলিশ,প্রেস রিলিজ এ উল্লেখ্য আছে যে,বেড়ার ইমরান হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন আসামী গ্রেপ্তার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার।২৬/৩/২০২২ তারিখ রাত অনুমান ১১ ঘটিকার সময় ইমরান (২২) পিতা আব্দুল কুদ্দুস সাং করমজা থানা সাঁথিয়া জেলা পাবনা খাওয়া দাওয়া শেষে নিজ শয়ন কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে।২৭/৩/২০২২ তারিখ অনুমান০৬ঃ১০ ঘটিকায় তাকে শয়ন কক্ষে না পেয়ে বাড়ির লোকজন খোজাখুজি করে।

একপর্যায়ে একই তারিখ সকাল অনুমান ০৭ঃ৩০ ঘটিকার সময় ইমরানের মৃতদেহ বেড়া থানাধীন আলহেরা নগর পূর্ব সাকিনস্হ মোঃ লিয়াকত সরকারের বসত বাড়ির দক্ষিন পাশে আব্দুর রহমানের ঘাসের জমির ভিতর পাওয়া যায়।মৃতের বাবা আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে ২৮/৩/২২ তাটিখ বেড়া থানায় আসিয়া অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।এই বিষয়ে বেড়া থানার এফআইআর ১৪/৫৪ তারিখ ২৮/৩/২২ ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।এসআই জুবাউদুল ইসলাম কে মামলার তদন্তকারী অফিসার নিযুক্ত করা হয়।হত্যাকান্ডের বিষয়টি সবোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জনাব মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম পুলিশ সুপার পাবনা সার্বক্ষনিক মনিটরিং করেন।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেড়া সাকেল, জেলা গোয়েন্দা শাখা, পাবনা র নির্দেশনা ও সহ যোগিতায় ওসি অরবিন্দ সরকার, এসআই জুবাইদুল,ফারুক সরকার এএসআই মতিন, আনোয়ার ও ফোস সহ বেড়া ও নারায়নগন্জের ফতুল্লা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ১/ আজাদুর রহমান নবীন(২৪) পিতা আব্দুল মাজেদ ২/ আলাউদ্দিন (২০) পিতা মালপক মোল্লা উভয় সাং স্যানাল পাড়া বেড়া, পাবনা দেরকে গ্রেফতার করেন।জিঙ্গাসাবাদে নবীন জানান ২০১৫ সালে ইমরান তার ভাই আরাফাত কে অপহরন করিয়া হত্যা করে।

প্রায় পাচ বছর ইমরান যশোর কিশোর সংশোধনাগারে থেকে ৮/৯ মাস আগে বের হয়। এবং তাদের বলে কি করতে পারলি।নবীন ভাই হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইমরানের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে মেয়ে কন্ঠে প্রেম করে।২৫/৩ /২২ তারিখ নবীন কক্সবাজার থেকে নারায়ন গন্জ এসে আলাউদ্দন এর সাথে পরিকল্পনা কর।দুইজন একসাথে বেড়া চলে আসে।এবং হত্যার জন্য ছুরি ও দড়ি কিনে।২৬/৩/২২ তারিখ রাত অনুমান ১১ঃ৩০ ঘটিকার সময় নবীন পূব পরিকল্পনা মোতাবেক ইমরান কে মেয়ে কন্ঠে প্রেমিকার অভিনয় করে আলহেরা নগর লিয়াকত হোসেন এর বাড়ির পাশে নিয়ে আসে।ইমরান তিন প্যাকেট চিপস নিয়ে সেখানে আসিলেই আগে থেকে ওত পেতে থাকা নবীন ও আলাউদ্দিন জাপটে ধরে রশি দিয়ে পেচিয়ে পাশের ঘাস ক্ষেতে নিয়ে যায়।ইমরান ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করিলে নবীন ও আলাউদ্দিন ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ইমরানের মৃত্যু নিশ্চিত করে পাশেই একটি পুকুরে ছুরি ফেলে দিয়ে চলে যায়।আসামী দের দেয়া তথ্য মতে ছুরি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃত আসামী দ্বয় কে আদালতে হাজির করা হয়, তারা ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দী দেয়।আদালত আসামীদের কে জেলহাজতে প্রেরন করেন।

হৃদয় হোসাইন
পাবনা