print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,০৯, মার্চ,২০২২

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

গফরগাঁও উপজেলায় নগদ ৫ লাখ টাকা এবং ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে স্থানীয় ওয়াল্টন শোরুম বারীপ্লাজার মার্কেটের জনির দোকানের এক কর্মচারীর সঙ্গে পালিয়ে গেছেন প্রবাসীর স্ত্রী।

গত ২৫ নভেম্বর এ ঘটনায় টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারে স্ত্রী মীম আক্তারকে প্রধান আসামি করে আরও ৩ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে প্রবাসী সাইফুলের মামা মোঃ রফিকুল ইসলাম। এদিকে প্রবাসী স্বামীর মোটা অংকের টাকা নিয়ে ওয়াল্টন শোরুমের কর্মচারী আশিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের আশিক মিয়া (২২), মধ্যে বাজারের ওয়ার্কসফ ব্যবসায়ী জলিল (৩৫) এবং বড়াইল গ্রামের পঁচা সেকের বাড়ীর সাবেক চেয়ারম্যান স্বপনের চাচাতো ভাই মজিবুরের স্ত্রী সাজেদা আক্তার (৪৫) প্রবাসীর শাশুড়ী।

পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২১ইং সালের মে মাসের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের লাকচতল গ্রামের সিরাজুল ইসলাম সেকের দ্বিতীয় ছেলে প্রবাসী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মীম আক্তারের বিয়ে হয়। প্রায় একযুগ যাবত মালেশিয়া কুয়ালামাপুরে থাকার সুবাদে বিয়ের সময়ে সাদ্দাম তার স্ত্রীকে প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উপহার দেন। এরই মাঝে সে আবারও মালেশিয়া চলে যায়।

এদিকে পূর্ব পরিচিত মীমের মা সাজেদা খাতুনের জলিলের সাথে সংখ্যাতায় ওয়াল্টন শোরুম থেকে কিস্তিতে ফ্রীজ কিনে দেওয়ার কথা বলে কর্মচারী বন্ধু আশিকের সাথে মীমের পরিচয় করে দেয়। কিস্তি পরিশোধ চলাচলের সুবাদে মীমের সঙ্গে আশিকের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। প্রায়ই সে মীমের বাড়িতে যাতায়াত শুরু করে। প্রবাসী সাইফুল বিশ্বাস করে এলাকায় জমি ক্রয়ের জন্য ব্যাংকে গচ্ছিত টাকাগুলো বাড়িতে তার স্ত্রী মীম ও শাশুড়ী সাজেদার নিকট রাখার বিষয়টি জানতে পারে আশিক। সে মীমকে বিয়ের প্রলোভন দেখায়। নভেম্বর মাসের ২৫ তারিখে আশিকের হাত ধরে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায় মীম।

কয়েকদিন পর প্রবাসী সাইফুলের পরিবার তাকে উদ্ধার করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর নিতে লাগলে প্রতারক জলিল গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ফিরিয়ে দেবার শর্তে নয়তো বা ডিবি পুলিশের সহোযোগিতায় উদ্ধার করে দিবে বলে ৭৫ হাজার টাকা গ্রহণ করে।

এ ঘটনায় প্রবাসী সাইফুলের মামা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৮ ডিসেম্বর একটি অভিযোগ শ্রীপুর থানায় দায়ের করেন।

এ বিষয়ে বাদী রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাগ্নের সহজ সরল মনকে দুর্বলতা ভেবে বিদেশের উপার্জিত অর্থ ও স্বর্ণ অলংকার আত্মসাৎ করার পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের মীমের মা সাজেদা আক্তারের।

মীমের মা সাজেদা আক্তার বলেন, আমি কি করবো মেয়ে (মীম) প্রাপ্ত বয়স্ক স্বামী বিদেশে কি করে থাকবে বলেন, ও আশিককে পছন্দ করে বিয়ে করেছে। টাকা স্বর্ণ অলংকারের কথা স্বীকার করে বলেন আমি যা নিয়েছি দিয়ে দিবো।

শ্রীপুর থানার এস আই মামুন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আসামিদের আটক করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।