
মনিরুল ইসলাম, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর সাপাহারে প্রকাশ্য দিবালোকে এক আমচাষীর ৫শ’ আমগাছের মুকুল কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এছাড়াও একই বাগানে রোপনকৃত ১হাজার ৭শ’ বরই গাছের গোড়া সহ উঠে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে সাপাহার-পোরশা উপজেলার মধ্যেবর্তী বড়গুন্দইল গ্রামে।
সরেজমিনে চাষী মোশারফ হোসেন মুক্তা ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, পোরশা উপজেলার জনৈক মোর্শেদ মঞ্জুর নামে এক ব্যক্তির ৮বিঘা জমি সাপাহার-পোরশা উপজেলার মধ্যবর্তী বড়গুন্দইল গ্রামের মাঠে ২বছর আগে মোশারফ হোসেন লিজ নেন। প্রাথমকি অবস্থায় মৌখিক ভাবে জমির মালিককে তিন লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জমি লিজ নেওয়া হয়।
মোশারফ ২লক্ষ টাকা জমির মালিককে দিয়ে লিজকৃত জমিতে আমগাছ ও বরইগাছ রোপন করেন। গাছ রোপনের পরপরই ২বছর যাবৎ গাছের পরিচর্যারো কোন ঘাটতি রাখেননি তিনি। পরবর্তী সময়ে এক লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা থাকলে মোশারফ জমির মালিককে ৫০হাজার টাকা দিয়ে কয়েকদিনের জন্য সময় নেন। লিজ নেওয়ার পূর্বে ওই জমিগুলো বর্গা চাষ করতেন পোরশা উপজেলার গুন্দইল গ্রামের মৃত কয়নাল মন্ডলের ছেলে নুর মোহাম্মদ।
জমিগুলো তার কাছ থেকে নিয়ে মোশারফকে লিজ দেওয়ায় নুর মোহাম্মদের মনে ঈর্ষা জন্ম নেয়। আর হিংসার বশবর্তী হয়ে আবারো জমিগুলো হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে গত বুধবার (১৬মার্চ) সন্ধ্যার আগে নুর মোহাম্মদ ও তার ছেলে আনোয়ার জমির মালিককে ভুল বুঝিয়ে আট বিঘা জমিতে রোপনকৃত ২বছর বয়সী আম গাছের মুকুল কেটে সাবাড় করে দেন।
শুধু তাই নয় ১হাজার ৭শ’ বরই গাছ গোড়া সহ উপড়ে ফেলে তারা। যে বরই গাছগুলোর নতুন কুশি বের হওয়ার জন্য ডালপালা পূর্বেই ছেঁটে ফেলা হয়েছিলো। এসময় মোশারফ বাধা দিতে গেলে তাকে নানা রকম হুমকি ধামকা দিয়ে জমি থেকে বিতাড়িত করে দেয় নুর মোহাম্মদ ও তার ছেলে আনোয়ার। মোশারফ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কোনপ্রকার বিবাদে লিপ্ত না হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। মোশারফের প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরো জানান, মৌখিক শর্ত অনুযায়ী ৫০হাজার টাকা দিতে দেরী হওয়ায় শর্তভঙ্গের কারন দেখিয়ে তারা আমার নিজ হাতে রোপনকৃত গছিগুলোর মুকুল কেটে ফেলে। এবছরে আম নেওয়ার উপযুক্ত হয়েছিলো গাছগুলো। এসংক্রান্ত বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
এবিষয়ে নুর মোহাম্মদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মোশারফ লিজের শর্ত ভঙ্গ করার কারনে জমির মালিক গাছের ডাল কাটার অনুমতি দিয়েছে তাই কেটেছি।
নুর মোহাম্মদের ছেলে আনোয়ার বলেন, এবছর আম নেওয়া যাবেনা এজন্য মুকুলগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। গাছের মালিক মুকুল না কেটে তিনি কেন কাটছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গাছ মোশারফ লাগিয়েছে এটা সত্য। তবে জমির মালিক হুকুম দেওয়াতে আমরা গাছের মুকুল কাটছি।
এবিষয়ে পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ ও সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তারা বলেন, এসংক্রান্ত বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ হয়নি। তবে অভিযোগ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


