print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,৮ এপ্রিল, ২০২১

মো:রফিকুল ইসলাম,নড়াইলঃ

নড়াইল সদর হাসপাতালের হিসাবরক্ষকের ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ,তাহলে নড়াইল সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতি বছরের অডিট ছাড়াই ঘুমিয়ে ছিল।
নড়াইল সদর হাসপাতালের হিসাবরক্ষক ও এক সময়ের বিএনপির প্রভবশালী নারীনেত্রী জাহান আরা খানম লাকির বিরুদ্ধে ২১মাসের ইউজার ফি-এর (হাসপাতালের বিভিন্ন খাত থেকে আয়ের টাকা) ৭০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের হিসাব রক্ষকের এ অর্থ জমা দেওয়ার কথা। হিসাবরক্ষক ব্যাংকে অর্থ জমা দেওয়ার কিছু চালান দেখাচ্ছেন কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলছেন এসব চালান জাল। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপিসহ চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে জাহান আরা খানম লাকির নির্দেশে হাসপাতালের টেন্ডার, ডাক্তারী সার্টিফিকেট, অভ্যন্তরিন বদলিসহ সব কিছুই চলত। ডাক্তর-কর্মচারিরা ছিলো কোণঠাসা।
এই বিএনপি নেত্রী আওয়ামী-লীগ ক্ষমতায় আসার পর রং পরিবর্তন করে সরকারি দলীয় স্থানীয়দের ম্যানেজ করেই আছেন বহাল তবিয়তে।জাহানারা খানম লাকি শহরের আলাদাতপুর এলাকার জেলা বিএনপির বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক মেয়র জুলফিকার আলী মন্ডলের স্ত্রী।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাহান আরা খানম লাকি ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই নড়াইল সদর হাসপাতালে হিসাবরক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। হাসপাতালের রোগি ভর্তি ফি, অপারেশান থিয়েটার, বহিঃ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা ফি,এক্সরে, প্যাথলজি, আলট্রাসনো ও ব্লাড ব্যাংক,কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহ ফি, অ্যাম্বুলেন্স, ইসিজি, কেবিন ও পেইন বেড ফিসহ বিভিন্ন খাত থেকে যে আয় হয় তা প্রতি মাসে একবার করে সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখায় জমা দিতে হয় এবং তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়। কিন্তু বর্তমান হিসাবরক্ষক হাসপাতালে যোগদানের পর কোনো অর্থ জমা দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ উঠেছে,হিসাবরক্ষক সদর হাসপাতালে যোগদানের পর ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের ৪৫ লাখ টাকা এবং ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের ৯ মাসের ২৫ লাখ টাকা ব্যংকে জমা দেননি। তবে তিনি সোনালী ব্যাংকে এসব অর্থ জমা দেওয়ার চালান দেখাচ্ছেন, যা ভুয়া বলে জানা গেছে।অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম লাকি বলেন,কিছু টাকা জমা দিতে বাকি আছে তা এক সপ্তাহের মধ্যে দিয়ে দেব। তবে কত টাকা বাকি রয়েছে তা বলতে পারেননি। এর বেশী আর কিছু বলতে চাননি তিনি।সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা:আব্দুর শুকুর বলেন, ইউজার ফি সঠিকভাবে ব্যাংকে জমা পড়ছে কিনা তা যাচাই করার জন্য হিসাব রক্ষকের কাছ থেকে ব্যাংকের সই ও সিল স্বাক্ষরিত চালান নিয়ে মঙ্গলবার (৬এপ্রিল) সোনালী ব্যাংকে গিয়ে দেখি গত ২১মাসে ৭০ লাখ টাকার এক টাকাও জমা পড়েনি। সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার জানিয়েছেন চালানগুলোর সই ও সিল তাদের না।এ ঘটনার পর হিসাব রক্ষককে বিষয়টি জানিয়েছি এবং ৩ দিনের মধ্যে সমুদয় অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য বলেছি। তার বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার জন্য তাকে চিঠি দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত হিসাব রক্ষককে পরবর্তীতে ইউজার ফি জমা দেওয়ার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।এদিকে অভিযোগে জানা যায়,২১ মাসের ৭০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেননি হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম লাকি,তাহলে কি নড়াইল সদর হাসপাতালে প্রতি মাসে বা প্রতি বছরে যে উর্ধতন কর্মকর্তা”রা অডিট করে হিসাব কেন নিলেন না।প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই মাসে একবার হলেও অডিটের মাধ্যমে হিসাব করা হয় বা বছরে একবার হলেও অডিটের মাধ্যমে হিসাব করা হয় কিন্তু ২১ মাসেও কেন কোন হিসাব নেননি হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম লাকির কাছ থেকে,সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এটা রয়েছে ধোয়াশা,কেচো খুড়তে আবার সাপ বেরিয়ে না আসে।হাসপাতালের ১ মাসের টাকা ব্যাংকে জমা না দিলে ব্যাংক ম্যানেজার কি করেছে যে ২১ মাস পরে এখন বলছে ব্যাংকের চালানগুলি জাল।নড়াইল সদর হাসপাতালের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ প্রতি মাসের হিসাব কেন নেইনি হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম লাকির থেকে,এ দূর্নিতি কি এক দিনে হয়েছে বা করেছে,না কি এ অর্থআত্নসাতের সাথে আরো অনেক রাঘোব বোয়াল জড়িত এমনটাই মন্তব্য করছেন নড়াইলের সুশিল সমাজ।নড়াইল সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার ম্যানেজার মো. আবু সেলিম বলেন, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হাসপাতাল থেকে যেসব চালান নিয়ে ব্যাংকে এসেছিলেন তার কোনোটিই ব্যাংকে জমা পড়েনি।