
প্রকাশিত
শাহাদাত হোসেন রাসেল
নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর হাতিয়ায় মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা জাগলার চরে অবৈধ অনুপ্রবেশ, বন উজাড় করে বন বিভাগের জমি দখল, সরকারি জমি ক্রয়-বিক্রয় এবং বন বিভাগের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, হামলার চেষ্টা ও হুমকির অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
বন বিভাগের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর হাতিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় বন আইন, ১৯২৭-এর ২৬(১এ), ২৬(১)(বি), ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৪(১)(ক), ৪(১)(খ), ১১ ও ১৬ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৪১, ১৪৩, ১৮৬, ১৮৯, ৩০৭, ৩৫৩ ও ৫০৬ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাতিয়া উপজেলার সুখচর সংলগ্ন মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা জাগলার চরের ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট-সংলগ্ন এলাকায় কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের জমিতে অনুপ্রবেশ ও বন উজাড় করে জায়গা দখলের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ অবস্থানকারী ও তাদের সঙ্গে যুক্ত কিছু এজেন্ট ভূমিহীন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে জাগলার চরের বন বিভাগের জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ‘দাগ বিক্রি’র নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তির মতো বিক্রি করার এই প্রক্রিয়ায় প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, এমন অভিযোগও করা হয়েছে।
বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অবৈধ অবস্থানকারীদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে তারা সরকারি কাজে বাধা দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অপরাধজনক বল প্রয়োগ, আক্রমণের চেষ্টা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে হাতিয়া থানায় মামলা নম্বর-১৮, তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে মামলা রুজু করা হয়। পরে মামলার তদন্ত ও অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তিতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—হাতিয়ার সুখচর ইউনিয়নের উত্তর শূল্যকিয়া এলাকার এনায়েত হোসেন ওরফে এনায়েত খলিফা (৫৬) এবং চর কিং ইউনিয়নের কলাপাড়া এলাকার মো. রুবেল (৩০)।
এনায়েত হোসেনের পিতা মৃত আবুল খায়ের ও মাতা মৃত মরিয়ম বেগম। তার বাড়ি সুখচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর শূল্যকিয়া এলাকায়।
অপরদিকে মো. রুবেলের পিতা মৃত খবির উদ্দিন ও মাতা মাহফুজা বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা চর কিং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলাপাড়া এলাকায়। ওই এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় বর্তমানে তিনি শূল্যকিয়া কিল্লা বাজারের উত্তর পাশে সরকারি কলোনি এলাকায় বসবাস করছেন বলে মামলার তথ্য থেকে জানা গেছে।
পুলিশ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করেছে।
জাগলার চর মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা নতুন ভূমি হওয়ায় সেখানে সরকারি সম্পদ ও বনভূমি রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ রয়েছে, নতুন জেগে ওঠা ভূমিকে কেন্দ্র করে একটি চক্র সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে জমি দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। ফলে সরকারি জমির দখল ও কথিত ‘দাগ বিক্রি’র সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের পেছনে আর কেউ রয়েছে কি না এবং এসব লেনদেনের প্রকৃত পরিমাণ কত, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর নজরদারি না থাকলে জাগলার চরের বনভূমি ও সরকারি সম্পদ দখলের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।



