print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
এম এইচ লিপু মজুমদার ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন গত ১১জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। এছাড়াও উপজেলা চেয়ারম্যান কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি(এডিপি) বরাদ্দের প্রকল্প অনুমোদনসহ নানাবিদ উন্নয়ন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন গত ১০জানুয়ারি সন্ধ্যায় তাঁর নিজ কার্যালয়ে এসে ঘন্টা দুয়েক দাপ্তরিক কাজ করেন। এর পর থেকেই তিনি আর অফিসে আসছেন না। এ উপজেলায় জানুয়ারি মাসের উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভা গত ১৪জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের মাসিক সমন্বয় সভা গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কর্মস্থলে না থাকায় এই দুই মাসের উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। এ অবস্থায় বার্ষিক উন্নয়ন উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রকল্প অনুমোদন, দ্বিতীয় পর্যায়ের টিআর,কাবিখার প্রকল্প অনুমোদনসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিগ্নিত হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত ৭জানুয়ারি রাত আটটার দিকে উপজেলার সুনই জলমহালে মৎস্যজীবি শ্যামাচরণ বর্মণ (৬৫)কে গলাকেটে হ্ত্যা করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে। কিন্তু চেয়ারম্যানের স্বজনেরা জানিয়েছেন, ঘটনারি দিন উপজেলা চেয়ারম্যান রোকন এলাকায় ছিলেন না। পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে এ ঘটনায় জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্ঠা করা হচ্ছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের গাড়ি চালক মুখেলেছুর রহমান জীবন বলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স্যার শারিরীক অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে এলাকার বাইরে রয়েছেন। তিনি এখন কোথায় আছেন তা আমি জানিনা। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি জানি না।

মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার বলেন, দুই মাস ধরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভা না হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকনের ব্যক্তিগত তিনটি মুঠোফোন নম্বরে আজ শুক্রবার একাধিকবার কল দিলেও তাঁর তিনটি নম্বরই বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়িনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মুনতাসির হাসান বলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাহেব বেশ কিছুদিন ধরে কর্মস্থলে না থাকায় নির্ধারিত সময়ে জানুয়ারি ও ফেব্রুযারি মাসের উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভা করা সম্ভব হয়নি।
তবে চেয়ারম্যানের এক ঘনিষ্ঠজন আমাকে জানিয়েছেন, এই মাসের সমন্বয় সভা যাতে সপ্তাহ খানেক পরে করা হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান কর্মস্থলে না থাকায় এডিপির ও টিআর –কাবিখা (সাধারণ )বরাদ্দের প্রকল্পের অনুমোদনও আটকে রয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছেন।##