
প্রকশিত
মোঃ শিহাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামে এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহত গৃহবধূ শান্তি বাইন (প্রায় ৩০) গোপালপুর ইউনিয়নের বরৈহাটি গ্রামের সুশান্ত বৈরাগীর কন্যা। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জননী—একজনের বয়স আট বছর, অন্যজনের পাঁচ বছর। মায়ের অকালমৃত্যুতে শিশু দুইটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও শোকের আবহ বিরাজ করছে।
দীর্ঘদিনের নির্যাতন, মাদকের টাকা নিয়ে শেষ সংঘর্ষ
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তি বাইনের স্বামী রুবেল বাইন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। বিয়ের শুরুতে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও অল্পদিনের মধ্যেই দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে রুবেল প্রায়ই শান্তিকে শারীরিক নির্যাতন করতেন—যা উভয় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের জানা ছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কন্যাসন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শান্তি বাইন দীর্ঘদিন নীরবে নির্যাতন সহ্য করেছেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে চাপ দেন রুবেল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি শান্তিকে বেধড়ক মারধর করেন—পেট ও বুকে গুরুতর আঘাত করেন বলে অভিযোগ।
চিকিৎসা না দিয়ে আটকে রাখা, পরদিন মৃত্যু
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গুরুতর আহত অবস্থায় সেদিন কোনো চিকিৎসা না দিয়ে শান্তিকে বাড়িতেই আটকে রাখা হয়। পরদিন তার অবস্থার অবনতি হলে মুমূর্ষু অবস্থায় গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ রেফার করেন। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও অভ্যন্তরীণ গুরুতর আঘাতের কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শান্তি বাইন মারা যান।
ঘটনা ধামাচাপার অভিযোগ, জনপ্রতিনিধির নাম জড়ানো
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গোপালপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সরজিত বিশ্বাস ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আর্থিক প্রলোভনের মাধ্যমে মামলা না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সরজিত বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে জানা গেছে।
থানার বক্তব্য
এ বিষয়ে টুঙ্গীপাড়া থানা-র অফিসার ইনচার্জ আইয়ুব আলী জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
নিহত শান্তি বাইনের পরিবার, তার দুই অবুঝ কন্যা ও এলাকাবাসী এই মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, বিচার নিশ্চিত না হলে এমন নৃশংসতা সমাজে আরও বাড়বে—নীরব নির্যাতনের শিকার নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে।
দাবি: দ্রুত মামলা গ্রহণ, অভিযুক্তের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং শিশু দুইটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।




