print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর গলাচিপায় মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য বরফ না পেয়ে বিপাকে পড়েন এক পরিবার। চার থেকে পাঁচটি বরফকল ঘুরেও বরফ না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন তাঁরা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে একটি বরফকল থেকে বরফের ব্যবস্থা করা হয়। 

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে গলাচিপা পৌরশহরের খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম মো. বেল্লাল সরদার (৪০)।

তিনি উপজেলার উত্তর চরকাজল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেল্লাল সরদারের মৃত্যু হয়।
তিনি জ্বর, কিডনিসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিন দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বরিশালে এনে রোববার সন্ধ্যায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

স্বজনরা জানান, মরদেহটি উপজেলার চরকাজল এলাকায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করতে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিতে হবে। যাতায়াত ও অন্যান্য প্রস্তুতি শেষে বাড়িতে পৌঁছাতে বিকেল হয়ে যাবে। এ ছাড়া দূরে থাকা স্বজনদের শেষবারের মতো মরদেহ দেখার সুযোগ দিতে বিকেলে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে মরদেহের অবস্থা খারাপ হতে থাকায় দ্রুত বরফের প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু চার থেকে পাঁচটি বরফকল ঘুরেও বরফ পাওয়া যায়নি। বরফ না থাকার কথা জানিয়ে দেন বরফকলের মালিকরা। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের অনুমতি সাপেক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ ফারুকুজ্জামাকে পাঠানো হয়। তাঁর উপস্থিতিতে একটি বরফকল থেকে কিছু বরফ সংগ্রহ করে দেওয়া হয়। এতে মরদেহ বাড়িতে নেওয়া ও দাফনের প্রস্তুতি নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ কিছুটা কমে।

বরফকলের এক মালিক মুনতাসীর রহমান তালুকদার জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মা ইলিশ রক্ষায় ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলায় প্রশাসনের নির্দেশনায় বরফকল বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্দেশনা না থাকায় মরদেহের জন্য বরফ চাইলেও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গত দুই দিনে দুটি মরদেহের জন্য বরফ চাওয়া হলেও অনুমতি না থাকায় এবং বরফকল বন্ধ থাকায় তাঁরা বরফ দিতে পারেননি। তিনি আরও জানান, প্রতিবছর একটি বরফকল চালু থাকলেও এবার সব বন্ধ রাখায় চাষের মাছ সংরক্ষণ ও পরিবহন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন জানান, মা ইলিশ রক্ষা ও অবরোধ বাস্তবায়নে জেলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরফকল বন্ধ রাখা হয়েছে। এ জন্য বরফকলগুলোর বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার পুরো সময় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মোহাম্মদ ইজাজুল হক বলেন, “খবরটি পেয়ে আমরা জেলা পর্যায়ে জানাই। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের অনুমতি সাপেক্ষে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। তাঁর উপস্থিতিতে একটি বরফকল থেকে কিছু বরফ সংগ্রহ করে দেওয়া হয়েছে। পরে বরফকলটি আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর মা ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞার সময় একটি বরফকল চালু রাখা হলেও এবার তা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে এমন সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁরা মানবিক দিক বিবেচনায় অন্তত একটি বরফকল চালু রাখার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। এতে মৃতদেহ সংরক্ষণের পাশাপাশি চাষের মাছ সংরক্ষণ ও পরিবহনে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তিও কমবে বলে মনে করছেন তাঁরা।