print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি

 পটুয়াখালীর গলাচিপার গোলখালীতে মার্জিয়া (২০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

৫ জুন শুক্রবার এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বাবা। নিহত মার্জিয়া গোলখালী ইউনিয়নের চর হরিদেবপুর গ্রামের আলতাফ হোসেন হাওলাদারের মেয়ে।

পুলিশ জানায়, ৪ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টায় উপজেলার চর সুহুরী গ্রামে তার স্বামীর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে একই এলাকার রাসেল হাওলাদারের সঙ্গে মার্জিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মার্জিয়াকে মানসিক চাপে রাখা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মার্জিয়ার স্বামী রাসেল হাওলাদার ও তার বন্ধু লিমন দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন করতেন। মার্জিয়া স্বামীকে মাদকাসক্তি ও বন্ধু লিমনের সঙ্গে মেলামেশা থেকে বিরত থাকতে বললে রাসেল ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। বিষয়টি শ্বশুর-শাশুড়িকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো মার্জিয়াকে অপমানজনক কথাবার্তা বলতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রাসেলের বন্ধু লিমন তাদের বাড়িতে আসেন। এ নিয়ে মার্জিয়া প্রশ্ন করলে রাসেল তাকে গালাগাল করেন। পরে রাসেল ও লিমন বাইরে যাওয়ার সময় মার্জিয়া বাধা দিলে আবারও তাকে অপমান করা হয়। বিষয়টি শ্বশুর-শাশুড়িকে জানালে তারাও তাকে তিরস্কার করেন। এসব ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মার্জিয়া আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

শুক্রবার নিহতের বাবা আলতাফ হোসেন হাওলাদার বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বামী রাসেল হাওলাদার (২৫), তার বন্ধু লিমন (২৫), বাবা বাচ্চু হাওলাদার (৪৭) ও মা মাসুমা বেগম (৪৪)-কে আসামি করা হয়েছে।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”