
প্রকাশিত,২৮, মার্চ,২০২২
সোহাগ হোসেন বেনাপোল থেকেঃ
যশোরের বেনাপোল স্থল বন্দর কে কেন্দ্র করে দু গ্রুপের মধ্যে বোমা বর্ষণ হয়েছে।
রোববার(২৮শে মার্চ) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বেনাপোল বন্দরে সামনে ও বন্দরের ভিতর এ বোমা বর্ষের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় বেনাপোল বন্দরের ৮২৫ এর ৩ শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছে।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
বন্দরের একাধিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বেনাপোল পৌর কাউন্সিলর রাশেদ ও বর্তমান বন্দরের ইজারাদার শার্শা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান ওহিদের মধ্যে বন্দর দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। এর আগেও এই বন্দর দখল নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে নিহত ও আহতের ঘটনায় ঘটেছিল। তারই সূত্র ধরে রোববার সকাল সাড়ে দশটার দিকে পৌর কাউন্সিলর রাশেদুল ইসলাম তার লোকজন নিয়ে বোমাবর্ষণের মাধ্যমে বন্দরের দখল নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময়ে অহিদুজ্জামান ওহিদের লোকজনও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া করে কাউন্সিলর রাশেদুল ইসলামের লোকজনকে। বন্দর দখলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপ শতাধিক বোমাবর্ষণ করেন বলেন সূত্রগুলো জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় বন্দর এলাকায় দু’গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল বন্দরের বর্তমান ইজারাদার শার্শা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান ওহিদের ফোনে কয়েকবার সংযোগ দিয়ে তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
অপরদিকে বেনাপোলের অভিযুক্ত পৌর কাউন্সিলর রাশেদুল ইসলাম’এর মুঠোফোনেও কয়েকবার সংযোগ দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। যে কারণে তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে বেনাপোলে পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। তবে বন্দর এলাকায় যদি কেউ বিশৃঙ্খলা তৈরি করে থাকে তাহলে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এখানে আমার বলার কিছুই নেই বলে তিনি জানান।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল ভুইয়া বলেন, বন্দরের হ্যান্ডলিং শ্রমিক লীগের নেতাদের সাথে বেনাপোলে পৌরমেয়র সমার্থক রাশেদুল ইসলামের সাথে বন্দর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধের জের ধরে পৌর কাউন্সিলর রাশেদুল ও তার বাহিনী নিয়ে রোববার সকাল সাড়ে দশটার দিকে বন্দরের শ্রমিকদের উপর অতর্কিত হামলা করে। এ সময় হামলাকারীরা শতাধিক বোমা বর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ৩ শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তিন জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে পুলিশ বন্দর এলাকায় কঠোর অভিযানে নেমেছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল বন্দরের সহকারি পরিচালক আল মামুনের মুঠোফোনে বারবার সংযোগ দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রেরকঃসোহাগ হোসেন
বেনাপোল যশোর
২৮/৩/২২


