

প্রকাশিত
জহুরুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দাড়িপাল্লা পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় জলঢাকা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি।
উপজেলা আমীর মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথি ওবায়দুল্লাহ সালাফি বলেন,“জলঢাকার মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন চায়।
আমরা সম্প্রীতির রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আজকের উপস্থিতি প্রমাণ করে, তারা শান্তি ও মানবিকতার রাজনীতির প্রতি আস্থা রাখেন। দাড়িপাল্লা প্রতীক সেই আস্থার প্রতিচ্ছবি।”
তিনি আরও বলেন,
“আগামী নির্বাচন জলঢাকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। মুসলিম ও হিন্দু-সব ধর্মাবলম্বীর সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমার অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাবো।মুসলমান ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমানভাবে অধিকার দেওয়া হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আন্তাজুল ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি প্রভাষক মনিরুজ্জামান জুয়েল, জেলা মজলিসে শূরা সদস্য প্রভাষক ছাদের হোসেন, উপজেলা নায়েবে আমীর ও জলঢাকা প্রেসক্লাব সভাপতি কামরুজ্জামান, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি মুজাহিদ মাসুম এবং পৌর জামায়াতের আমীর মোজাম্মেল হক প্রমূখ।
বিশেষ অতিথির আলোচনায় আন্তাজুল ইসলাম বলেন,
“জলঢাকায় বহুদিন ধরে মুসলিম ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করে আসছেন। এই ঐতিহ্য রক্ষাই দাড়িপাল্লা প্রতীকের অন্যতম অঙ্গীকার। উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, কৃষি সহায়তা, তরুণদের কর্মসংস্থান ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা আমাদের প্রতিশ্রুতি।”
সমাবেশে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী অনেকে জানান, জলঢাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অভিপ্রায়েই তারা সমাবেশে অংশ নিয়েছেন।
তারা বলেন,
“সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে আমরা দাড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে আছি এবং আগামী নির্বাচনে এ প্রতীকে ভোট দেবো।”
সমাবেশকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ ও জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি জলঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছে নেটিজেনরা।


















আপনার মতামত লিখুন :