আদম ব্যবসায়ীর চক্রের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব  এইচ এফ এম জাহাঙ্গীর হোসেন।


দেশ সময় প্রকাশের সময় : ২০২৫-১১-২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ন /
আদম ব্যবসায়ীর চক্রের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব  এইচ এফ এম জাহাঙ্গীর হোসেন।
print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

(পর্ব -১)

ফজর আলী সিকদার,কোটালীপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি:-

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার এইচ এফ এম জাহাঙ্গীর হোসেন,জাতীয় দৈনিক শেষ সংবাদ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক সাহেবের  বড় ছেলে  কুদ্দুস ফকিরকে ইটালি নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পিতা: এইচ এফ এম  জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছ থেকে ৬ ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং সালে তিন লক্ষ টাকা  হাতিয়ে নেয় দালাল চক্র বাদশা হাওলাদার(৪৫),পিতা:মৃত মজিদ হাওলাদার,গ্রাম: মজুমদার কান্দি,থানা: রাজৈর,জেলা: মাদারীপুর।

উক্ত আদম ব্যবসায়ী বাদশা হাওলাদারের খপ্পরে পড়ে,ধার দেনা করে তিন লক্ষ টাকা দেয় এই দালাল চক্রকে।এই আদম ব্যবসায়ীকে টাকা দিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এইচ এফ এম জাহাঙ্গীর হোসেনের পরিবার। এই ঋণের বুঝা মাথায় নিয়ে,প্রতি মাসেই গুনতে হচ্ছে ঋণের মোঠা অংকের লভ্যাংশ। ঠিক মতো না খেয়ে,না পড়ে- ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানতে হচ্ছে ঋণের বুঝা।এইচ এফ এম জাহাঙ্গীর হোসেন ঠিক সময়ের মধ্যে ঋণের মোঠা অংকের লভ্যাংশ পরিশোধ করতে গিয়ে দুশ্চিন্তাই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তিনি,বেশ কিছুদিন আগে তিনি এসব নিয়ে চিন্তা করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েন,এমতাবস্থায় উনাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান,তিনি মিনি ট্রোক করেছেন বলে জানা যায়।এখনো তিনি পুরোপুরি ভাবে সুস্থ হননি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করছেন এবং চিকিৎসকের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন যাপন করছেন তিনি।

উক্ত বিষয়ে,এইচ এফ এম জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বড় ভাই হাফেজ আলমগীর হোসেনের ছোট শ্যালক ওই আদম ব্যবসায়ী বাদশা হাওলাদার।আমার ছেলে কুদ্দুস ফকিরকে ইটালি নিয়ে যাওয়ার জন্য আমার পরিবার ও আমার ছেলেকে বিভিন্ন ধরনের কান মন্ত দেওয়া শুরু করে।এক পর্যায়ে আমি আমর ফ্যামিলির কথায় রাজি হয়ে বাদশা হাওলাদারকে ধার দেনা করে তিন লক্ষ টাকা দেয়।এরপর থেকেই বাদশা হাওলাদারের শুরু করে নাটক,বাদশা হাওলাদারের কাছে ইটালি যাওয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন তিন মাস সময় লাগবে,সব কিছু রেডি হচ্ছে। তিন মাস পর আবার বাদশা হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আরও তিন চার মাস সময় লাগবে। এমন করে ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল শেষের দিকে তবুও আদম ব্যবসায়ী বাদশার নাটক শেষ হয়নি,ইটালি যাওয়ার ভাগ্য হয়নি আমার ছেলে কুদ্দুস ফকিরের।কিছু দিন আগে আমার বড় ভাই হাফেজ আলমগীর হোসেন মারা যায়।আমার বড় ভাই মারা যাওয়ার পরে তার বড় ছেলে মাসুম বিল্লাহ আজাদীর কাছে বিষয়টি জানাই, তিনি অনেক চেষ্টা করেও কোন রকম সুরাহা দিতে পারিনি এই বিষয়ে,এমতাবস্থায় বিভিন্ন সময় আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে টাকা ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো বিভিন্ন রকম হুমকি ও খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করে আসে।সর্ব শেষ ২৩ ই নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে কোটালীপাড়া ঘাগর বাজারে আমার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের সামনে দিয়ে আদম ব্যবসায়ী বাদশা হেঁটে যাচ্ছিল,তখন আমি উনাকে দেখে সালাম কালামের মাধ্যমে বসে চা খাওয়ার আহ্বান জানাই,তিনি আমার সালাম ও চায়ের দাওয়াতের কথা শুনে আমার দোকানের সামনে এসে বসেন,তখন বাজারের গণ্যমান্য বেশ কয়েকজন লোক ছিল আমার দোকানের সামনে বসা,এমতাবস্থায় আমি পাশের দোকান থেকে একজনকে চা আনতে বলি,চা খাওয়ার এক পর্যায়ে আমার বড় ছেলে কুদ্দুস ফকিরকে ইটালি যাওয়ার কথা আলোচনা করি।এমতাবস্থায় তিনি আবার আগের পূর্বের নাটক শুরু করেন তিনি,পরে আমি আদম ব্যবসায়ী বাদশার নাটক শুনতে নারাজ হয়ে আমার ধার দেনা করে দেওয়া তিন লক্ষ টাকা ফেরত চাই, আমি টাকা চাওয়ার পরপরই আদম ব্যবসায়ী বাদশা আমার উপর চড়াও হয়ে উঠে,আমাকে ঘাগড় বাজারের বিভিন্ন লোকজনের সামনে বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমি যদি আর কখনো টাকা চাই তাহলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে এমনকি আমার ফ্যামিলির বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেয়।

এমতাবস্থায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের জানিয়ে আমার প্রাণের নিরাপত্তার স্বার্থে, আমার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে কোটালীপাড়া থানায় এসে ২৩ ই নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের  করি,যাতে প্রসাশনের সহযোগিতায় আমার পাওনা টাকাটা ফেরত পাইতে পারি এবং আমার নিরাপত্তার বিষয়টি যেন নিশ্চিত হয়,এর সুব্যবস্থা করতে প্রসাশনের কাছে অনুরোধ করছি।

(আদম ব্যবসায়ী বাদশার বিস্তারিত জানতে -২ য়,পর্বে আমাদের সাথে থাকুন)