
প্রকাশিত
ইমাম হাসান জুয়েল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: বিদ্যমান সমস্যা, নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবনী প্রতিক্রিয়া’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে জেলা প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র্যালি বের করা হয়। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ, ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের নায়েব সুবেদার নাসির, ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. এ. কে. এম. শাহাব উদ্দীন, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. সেরাজ উদ্দীন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আবদুল ওদুদ।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দেওয়া। সভাপতির বক্তব্যে উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তির নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নেরও বড় অন্তরায়। জীবন একটাই, তাই জীবনকে ভালোবাসুন এবং মাদক থেকে দূরে থাকুন।” তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সফল বাস্তবায়নে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গী বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও অবৈধ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসনমূলক উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে। মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও সৃজনশীল কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি পরিবারকে সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার এবং তাদের চলাফেরা ও বন্ধু নির্বাচনের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শেষে মাদকবিরোধী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন । দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।



