
প্রকাশিত
এস.এম.জামাল উদ্দিন শামীমঃ
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় রাতের আধাঁরে একটি কাঠ কাটার করাত কলে (স’মিল) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের ঘাগড়া বাজার সংলগ্ন বিসমিল্লাহ স’মিলে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
আগুনে মিলের অবকাঠামো,মুল মেশিন, মূল্যবান যন্ত্রপাতি, সেচ পাম্প ও একাদিক ব্যাবসায়ীদের বিভিন্ন প্রজাতির গচ্ছিত কাঠ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ঢেলে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে এমনটাই দাবী তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাবয়ায়ী ও তার পরিবারের সদস্যরা, একই সাথে এতে তাঁরা প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে দাবী করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শফিক মিয়া জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে স্থাপিত স’মিলে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন রাতেও স’মিল সংলগ্ন বাজারে নৈশপ্রহরী হিসেবে মইন উদ্দিন দায়িত্বে ছিলেন। নৈশপ্রহরী স’মিলটি আগুনে পুড়তে থাকার খবর দেয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ততক্ষণে স’মিলের শ্যালো মেশিন, আসবাবপত্র এবং মজুত থাকা কাঠ পুড়ে যায়,এতে দশ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুবৃত্তরা আমার শ্রম ঘামে প্রতিষ্ঠিত স্বপ্ন পুড়ে ছাই করে দিয়েছে।
করাত কল মালিক শফিক মিয়ার ছেলে শামীম মিয়া জানান, রাত দেড়টার দিকে বাজারের পাহারাদার মইন উদ্দিন তাদের মোবাইলে অগ্নিকাণ্ডের খবর দিলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ততক্ষণে প্রচন্ড আগুনে স’মিলের মূল ঘর, সেলো মেশিন, করাত, বেল্ট, শান পাথর, প্রচুর পরিমাণ সংরক্ষিত কাঠ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হিসেবে মিলের কিছুটা দূরে ১০ লিটার ধারণক্ষমতার একটি সন্দেহজনক প্লাস্টিকের ট্যাংকি পড়ে থাকতে দেখা যায়, যাতে পেট্রোলের অবশিষ্টাংশও পাওয়া যায়। এর ওপর ভিত্তি করেই মালিকপক্ষ ধারণা করছে, দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে পেট্রোল ঢেলে নাশকতামূলক এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দুর্বৃত্তায়নে সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।



