
প্রকাশিত
সোহাগ হোসেন বেনাপোলঃ
হঠাৎ করেই দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল পরিদর্শনে এসে বন্দরের নানা সমস্যা সরেজমিনে দেখলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান এমপি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি বন্দরের বিভিন্ন শেড, কার্গো ভেহিক্যাল মাঠ, টিটিআই মাঠ, আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, জিরো পয়েন্ট ও ইমিগ্রেশন এলাকা ঘুরে দেখেন।
এ সময় জলজট, শেডে পানি ঢোকা, খোলা আকাশের নিচে পণ্য পড়ে থাকা এবং শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবার সংকটসহ বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে দেশের রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশ আসে। এ বন্দরের সঙ্গে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ীও যুক্ত রয়েছেন। বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, শেডে পানি ঢুকে আমদানিকারকদের পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে পণ্য নষ্ট হওয়া এবং শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবার সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমবার বেনাপোল বন্দর পরিদর্শনে এসে এখানকার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেয়েছি। দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল স্থাপন, আধুনিক শেড নির্মাণ এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি বলেন, স্থলপথে দেশের সিংহভাগ পণ্য এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি হয়। তাই বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে যা যা প্রয়োজন, তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে।
এর আগে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজন বন্দরের বিভিন্ন সংকট ও ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তিনি বন্দরে অনিয়ম প্রতিরোধ, কাস্টমসের হয়রানি বন্ধ, দ্রুত পণ্য খালাস ও পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের দাবি জানান।
বুধবার দুপুরের দিকে প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে পৌঁছান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মানজারুল মান্নান ও যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়েদ রফিকুল ইসলাম। পরে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে চেয়ারম্যান মানজারুল মান্নানের সভাপতিত্বে বন্দরসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার, ইমিগ্রেশন ও অভিগমন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বাণিজ্য আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন, সহকারী পরিচালক সঞ্জয় কুমার, ইমিগ্রেশন পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



