print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ইরাক থেকে সম্পূর্ণভাবে সেনা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

নির্ধারিত সময়সীমার এক দিন আগেই মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর শেষ সদস্যরাও দেশটি ত্যাগ করেছে বলে জানিয়েছে ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৩ বছরের সামরিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, বর্তমানে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোনো বিদেশি সেনা সদস্য অবস্থান করছে না। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরাকি সশস্ত্র বাহিনী এখন সম্পূর্ণ সক্ষম।

২০০৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু হয়। সেই অভিযানের মাধ্যমে সাদ্দাম সরকারের পতন ঘটে এবং পরবর্তীতে দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার সূচনা হয়। তবে ওই অভিযানের পরবর্তী বছরগুলোতে ইরাক দীর্ঘস্থায়ী সহিংসতা, সাম্প্রদায়িক সংঘাত এবং নিরাপত্তা সংকটে নিমজ্জিত হয়।

মার্কিন বাহিনী প্রথমে সাদ্দামপন্থী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এবং পরে আল-কায়েদাসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে। পরবর্তীকালে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগে ইসলামিক স্টেট (আইএস) শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে নেয়।
২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করলেও আইএসের উত্থানের পর ২০১৪ সালে পুনরায় দেশটিতে সামরিক উপস্থিতি শুরু করে। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইএসবিরোধী অভিযানে ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সহায়তা এবং বিমান হামলার মাধ্যমে সমর্থন দেয় মার্কিন সেনারা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইরাক যুদ্ধ ও পরবর্তী সামরিক অভিযানে প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার সেনাসদস্য। একই সঙ্গে যুদ্ধ, সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় লাখো ইরাকি নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন ও ইরাক সরকারের মধ্যে সমঝোতা হয়। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সেই চুক্তির বাস্তবায়ন সম্পন্ন করে।

সেনা প্রত্যাহারকে ইরাকের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আজ ইরাকের জন্য একটি নতুন দিনের সূচনা হলো। বিদেশি সামরিক উপস্থিতির অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে। এখন জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ইরাক আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে ইরাকের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন বাস্তবতার সৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী দীর্ঘমেয়াদে এককভাবে সন্ত্রাসবাদ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে কতটা সক্ষম হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।